মলয়সুর, চন্দননগর : চন্দ্রযান অভিযান থেকে ক্রিকেট বিশ্বকাপ , রিও কার্নিভালের সাম্বা থেকে হরিদ্বারের গঙ্গা আরতি, পাশাপাশি বিভিন্ন শব্দ যন্ত্রের আওয়াজ আলোর জাদুতে বাজিমাত করতে প্রস্তুত আলোর শহর চন্দননগর। রাতদিন এক করে এখন শেষ মুহূর্তে শোভাযাত্রার কাজে ব্যস্ত চন্দননগরের আলোক শিল্পীরা। এই শহরের দৃষ্টিনন্দন আলোর খেলায় একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার লড়াই চলছে। আলোক শিল্পীদের মধ্যে কাজ নিয়ে চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখছেন সবাই। থ্রিডি ও ফোর ডি লাইটের কারিকুরিতে রাজ্য তথা গোটা দেশকে চমকে দিতে চলেছে ফরাসি শহর। তাই এই শহরের আরেক নাম আলোর নগরী। এই শহরের আলোর মায়াবী খ্যাতি দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই কারণেই বিদেশে কোন অনুষ্ঠানে এখানকার আলো পৌঁছে যায়। এখানে একাধারে বারোয়ারী গুলিতে পুজোর পাঠ চলে আর অন্যদিকে পুজোর শোভাযাত্রায় লাইট এর বিভিন্ন নতুন নতুন বিষয় ভাবনা নিয়ে আলোকশিল্পীরা ফুটিয়ে তুলতে প্রস্তুতি নেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। যদিও এবারে দুদিন দশমী পড়ায় শনিবার( ১লা নভেম্বর)বিসর্জন হবে। প্রায় ৭০ টি বারোয়ারি শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে। শোভাযাত্রার রুট ম্যাপ অনুযায়ী প্রত্যেকটি বারোয়ারি জ্যোতির মোড় দিয়ে প্রবেশ করে তালডাঙ্গা দিয়ে চন্দননগর স্ট্যান্ড হয়ে যার যার এলাকার নিজ নিজ ঘাটে বিসর্জন দেবে। এ বিসর্জন শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ২৩৩ বছরের ভদ্রেশ্বরের তেতুলতলা বারোয়ারী। অধীর আগ্রহে সবাই অপেক্ষা করে থাকেন শেষবারের মতন মায়ের মুখ খানি দেখার জন্যে ।এখানকার এক সময়কার বিখ্যাত আলোক শিল্পী স্বর্গীয় শ্রীধর দাসের হাত ধরেই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে আলোর সজ্জার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে। পরবর্তী সময়ে আরেকজন বিখ্যাত শিল্পী স্বর্গীয় বাবু পাল এই শিল্পকে ধরে রেখেছিলেন। এই শোভাযাত্রা কলকাতার কার্নিভাল কেউ প্রতিযোগিতা হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। শুধু চন্দননগর ভদ্রেশ্বর নয় সমগ্র হুগলি জেলার গন্ডি ছাড়িয়ে রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমগ্র দেশের মধ্যে এই শোভাযাত্রা সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে।
