Home Uncategorized বিশ্বের দরবারে খ্যাতি বাড়ছে আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি সহ ভারতীয় বংশতভূত ওষুধের

বিশ্বের দরবারে খ্যাতি বাড়ছে আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি সহ ভারতীয় বংশতভূত ওষুধের

0

ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন নিয়ে হু-এর সম্মেলন

ভারতে শুরু ২য় হু গ্লোবাল সামিট অন ট্র্যাডিশনাল মেডিসিনের কাউন্টডাউন। ১৭-১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠেয় এই বৈশ্বিক সম্মেলনের আয়োজনে ভারতের ভূমিকা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) শ্রী প্রতাপরাও যাধব। তিনি জানান, ২০২৩ সালে গুজরাটে অনুষ্ঠিত প্রথম সফল সম্মেলনের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই গুরুত্বপূর্ণ জমায়েতের আয়োজন করছে ভারত। ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থাকে মূলধারায় আনতে বৈশ্বিক যৌথ প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে এই সম্মেলন-যা ভারতের দর্শন ‘সর্বে ভবস্তু সুখিনঃ, সর্বে সু নিরাময়াঃ’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১০০-র বেশি দেশের মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্য-নেতা, গবেষক ও শিল্প প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। আয়ুর্বেদ, যোগ ও প্রকৃতিবিদ্যা, ইউনানি, সিদ্ধ, সোয়া-রিপা এবং হোমিওপ্যাথি-ভারতের আয়ুষ ব্যবস্থাগুলি আজ সারা বিশ্বে সমন্বিত ও বিশ্বস্ত সমাধান হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। গুজরাটের জামনগরে ডব্লুএইচও গ্লোবাল ট্রাডিশনাল মেডিসিন সেন্টার স্থাপনও ভারতের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ব্যবস্থার প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন।
ডব্লুএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের রিজিওনাল ডিরেক্টর এমেরিটাস ও ডিরেক্টর জেনারেলের

সিনিয়র অ্যাডভাইজর ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং বলেন, ২য় ডব্লুএইচও (হু) গ্লোবাল সামিট বিশ্বজুড়ে ঐতিহ্যবাহী, পরিপূরক ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনকে প্রমাণভিত্তিক ও ন্যায়সঙ্গতভাবে জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তির দশবছরের রোডম্যাপ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সামিট চলাকালীন ‘অশ্বগন্ধা: ফ্রম ট্রাডেশনাল উইসডোম টু গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অশ্বগন্ধাকে ঘিরে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশেষজ্ঞেরা আলোচনা করবেন। কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে উপরোক্ত বিষয় তুলে ধরেন ড. অঞ্জলি চ্যাটার্জি রিজিওনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর হোমিওপ্যাথির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ড. আরতি সোরেন।

কলকাতার এই গবেষণাকেন্দ্রে হোমিওপ্যাথির উপর গবেষণা প্রতিনিয়ত চলছে বলে জানান, সংস্থার ডা. গুরুদেব চৌবে। তিনি বলেন, এখানে অত্যাধুনিক ভাইরোলজি ল্যাব, ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ল্যাব ও অ্যানিম্যাল হাউস গড়ে তোলা হয়েছে, যা পিএইচডি গবেষক ও বিজ্ঞানীদের জন্য বড় সহায়ক। এই প্রতিষ্ঠানে যে গবেষণা প্রকল্পগুলি চলছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ইউরোলিথিয়াসিস, স্তন ক্যান্সার, অটিজম, ফাইব্রো অ্যাডেনোমা, জিইআরডি, সোরিয়াসিস, হাইপারটেনশন, মাইগ্রেন, ভিটিলিগো, কাশি, ইউটিআই, আঁচিল, কিশোর আচরণ, সমন্বয়জনিত সমস্যা, ডেঙ্গু, কোভিড-১৯, ক্লিনিক্যাল ভেরিফিকেশন, ড্রাগ প্রুভিং ইত্যাদি।

ড. পার্থ পার্থ প্রতীম পাল হোমিওপ্যাথি গবেষণা বিষয়ে তুলে ধরে বলেন, ‘আয়ুষ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বশাসিত সংস্থা সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি (সিসিআরএইচ) হোমিওপ্যাথি গবেষণার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা মেডিসিন স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, ড্রাগ প্রুভিং, ক্লিনিক্যাল ভেরিফিকেশনসহ বহু কেন্দ্রিক গবেষণা পরিচালনা করছে। র‍্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল, মৌলিক গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে হোমিওপ্যাথির বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মজবুত করাই সিসিআরএইচ-এর লক্ষ্য। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষা অভিযান, এসসিএসপি স্বাস্থ্য শিবিরসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।’
এছাড়াও পশুদের ওপরে ওষুধের প্রয়োগ বিষয়ক গবেষণা চলছে তা তুলে ধরেন জি. ভি. নারসিমা কুমার। এদিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ড. সুরাইয়া পারভীন, ড. চিত্তরঞ্জন কুণ্ডু ও ড. বিবাস্বান বিশ্বাস।

হোমিওপ্যাথির নিয়ে সকলেই আশাবাদী যে ভবিষতে এই গবেষণা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে সেরা আসরে তুলে আনবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version