Home Uncategorized আইএসআই কলকাতায় ভারতীয় ভাষা পরিবার বিষয়ক দু’দিনের আলোচনা সভা

আইএসআই কলকাতায় ভারতীয় ভাষা পরিবার বিষয়ক দু’দিনের আলোচনা সভা

0

ভারতে ১৩৩৫টি উপভাষা হয়েছে এবং সারা পৃথিবীতে প্রায় ৬০০০-এরও বেশি ভাষা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মূল ভাষার সংখ্যা ৪১টি, এর মধ্যে সরকার স্বীকৃতি দিয়েছে ৮টি ভাষাকে। এছাড়াও অন্যান্য ভাষা গোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৩৭টি। আমাদের কাছে ভাষার এই তত্ত্বগুলি অনেকটাই ভাসাভাসা। এবিষয়ে ভারতীয় ভাষা পরিবার দু’দিনের আলোচনা সভার ৯ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে। কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের ভারতীয় ভাষা সমিতির তত্ত্বাবধানে সভাটি আয়োজন করে আইএসআইয়ের লিঙ্গুইস্টিক রিসার্চ ইউনিট। উদ্দেশ্য ছিল ভাষাবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং নীতি বিশেষজ্ঞদের একত্রিত করে দু’টি বিশেষ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করা। এই গ্রন্থ দুটি হল, ভারতীয় ভাষা পরিবার: ‘আ নিউ ফ্রেমওয়ার্ক ইন লিঙ্গুইস্টিক্স’ এবং ‘কালেক্টেড স্টাডিজ অন ইন্ডিয়ান লিঙ্গুইস্টিক ফ্যামিলি: পার্সপেক্টিস অ্যান্ড হরাইজন্স’। এই দুটি গ্রন্থে উপনিবেশিক ভাষাবৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগের বাইরে এসে ভারতীয় ভাষাগুলির নিহিত সাদৃশ্য এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাতাত্ত্বিক ঐক্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসআই কলকাতার ডিন অফ স্টাডিজ প্রফেসর বিশ্বব্রত প্রধান। তাঁর মূল ভাষণে তিনি ভাষাতাত্ত্বিক বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মূল ভাবনার ব্যাখ্যা করেন এবং ভারতের মতো বহুভাষিক দেশে এমন উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আইএসআইয়ের অধিকর্তা ডঃ সঙ্ঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এই সভার অন্যতম লক্ষ্য আঞ্চলিক ভাষায় বিজ্ঞানশিক্ষার জন্য দেশীয় পরিভাষার একটি বিস্তৃত শব্দকোষ প্রস্তুত করা। এতে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং পাশাপাশি, আমাদের সমৃদ্ধ ভাষার ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা সহকারে এগিয়ে চলা সম্ভব হবে। তিনি বলেন যে, আইএসআইয়ের প্রতীকচিহ্নও একই মূল্যবোধ ধারণ করে। আলোচনাসভায় উপস্থিত প্রফেসর শৈলেন্দ্র কে. সিংহ (এনইএইচইউ, শিলং), প্রফেসর এস. অরুণমোজি (হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং খ্যাতনামা জৈবপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক বরপ্রসাদ কল্লার মত বিশিষ্ট বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বৌদ্ধিক স্বরাজ বা উপনিবেশমুক্ত দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভায় উপস্থিত সকলে একমত হন যে, ভারতের সাংস্কৃতিক সমন্বয় ভাষাগুলির মধ্যে কোনও শ্রেণীবিভাজন বা উচ্চ-নীচের ধারণা গড়ে উঠতে দেয় না।
একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রফেসর জানান, ‘আমরা চেষ্টা করছি ভারতীয় ভাষার একটা মৌলিক ভাবধারাকে তুলে ধরা। আলোচনায় ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে হিন্দিকে চাপিয়ে দেওয়ার একটি

পরিকল্পনা চলছে কিন্তু তা এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে হিন্দিকে প্রমোট করা নয়, ভারতবর্ষের বাকি সমস্ত ভাষার হিতগৌরবকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রত্যেকটি ভাষাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে মাতৃভাষার বিকাশের জন্য সাহায্য করা। নতুন প্রজন্মকে স্পষ্ট করে বোঝানোর প্রয়োজন আছে যে স্বীকৃত সমস্ত মাতৃভাষাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সেগুলিকে কিভাবে উন্নত করা যায় গবেষণা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারই প্রচেষ্টা চলছে এখানে। আইএসআই প্রথম থেকেই এবিষয়ে আমাদের সঙ্গে রয়েছে। উল্লেখ্য আইএসআই অঙ্ক এবং পরিসংখ্যানের বাংলা পরিভাষা তালিকা সম্পূর্ণ করেছি এবং তা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। যা পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে। এখন আমরা ভাষা বিজ্ঞানের পরিভাষা তৈরির কাজে আছি এবং তার জন্য অভিধান তৈরির কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও পরিভাষা অনুবাদ করার যে পদ্ধতি এবং তার যে ত্বাত্তিক ভূমিকা অর্থাৎ কীভাবে অনুবাদ করতে হবে তার পদ্ধতি নিয়ে বই প্রকাশিত হয়েছে।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version