Home Uncategorized ‘বাঘরোল’ মানুষকে আক্রমণ করেনা, কিন্তু বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে চলে আসে।...

‘বাঘরোল’ মানুষকে আক্রমণ করেনা, কিন্তু বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে লোকালয়ে চলে আসে। এদের প্রাণে না মেরে রক্ষা করাই সকলের কর্তব্য, প্রচার পরিবেশ কর্মীদের

0

সুমন আদক, হাওড়া: হাওড়া জেলার বাগনান, আমতা, শ্যামপুর সহ বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী ‘মেছোবিড়াল’ বা ‘বাঘরোলে’র বসবাস। কিন্তু এদের সংরক্ষণ ও রক্ষায় আরও পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাই প্রায় সময়ই মানুষের ভুল ধারণা থেকে তৈরি হওয়া সংঘাতে বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছে এই প্রাণী। চার বছর আগে বাগনানের কালিকাপুর গ্রামে পুকুর থেকে মাছ খেয়ে নেওয়ার জন্য তিনটি বাঘরোলকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনার মতো প্রায় একই ঘটনা তৈরি হয় দিনকয়েক আগে হাওড়ার আমতা বিধানসভার অন্তর্গত তাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারিট গ্রামে। নারিট গ্রামের মালিক পাড়ায় কয়েকদিন ধরেই রাতের অন্ধকারে গ্রামবাসীদের ছাগল, হাঁস, মুরগি ধরে তুলে নিয়ে যাচ্ছিল মেছোবিড়াল। ছাগল, মুরগি নিয়ে পালানোর সময় গ্রামের কয়েকজন মেছোবিড়ালকে দেখে ভুলবশত বাঘ ভেবে গ্রামে হইচই শুরু করেন। এই নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর কেউ বা কারাও একটি বাঘরোলকে মেরে গ্রামের বাঁশ বাগানে ফেলে আসে। গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট ও জয়পুর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য চিত্রক প্রামাণিক, সৌরভ মন্ডল ও অর্ঘ্য মল্লিক ওই গ্রামে যান এবং খোঁজখবর নিয়ে রাতের অন্ধকারে বাঁশবাগানে তল্লাশি চালিয়ে মৃত বাঘরোলের দেহ উদ্ধার করেন। বাঘরোলটির ঘাড়ে গভীর ক্ষত ছিল। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে। বন বিভাগের কর্মীরা গ্রামে এসে মৃত মেছোবিড়ালটির দেহ উদ্ধার করে এবং গ্রামে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। মৃত বাঘরোলের দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এই নিয়ে বন বিভাগ তদন্ত শুরু করেছে। এলাকার পরিবেশপ্রেমী ও শিক্ষক হেমন্ত কুমার দে বাঘরোল হত্যার নিন্দা করে বলেন, বাঘরোল বা মেছোবিড়াল আমাদের পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী। এদের রক্ষা করা আমাদের সবার কর্তব্য। এই বিষয়ে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চিত্রক প্রামাণিক বলেন, পূর্ণবয়স্ক মেছোবিড়ালটির ঘাড়ে গভীর ক্ষত রয়েছে। মেছোবিড়াল মানুষকে আক্রমণ করে না। কিন্তু বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে বর্তমানে লোকালয়ে এসে ছাগল, হাঁস ধরে নিচ্ছে। ছাগল, হাঁস পালকরা তাঁদের খাঁচা ও থাকবার জায়গাগুলি শক্তপোক্ত করলে মেছোবিড়াল সেগুলি ধরতে পারবে না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version