সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : সুদূর বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে চরম উৎকণ্ঠার প্রহর কাটছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সাগর ব্লকের মহেন্দ্রগঞ্জ এলাকায়। কাজের সূত্রে দুবাইতে রয়েছেন এই এলাকার বাসিন্দা দীপক চন্দ্র আর্য। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মাঝেই ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি। তবে সেখানকার উত্তপ্ত পরিস্থিতির বর্ণনা শুনে দীপকের পরিবার এখন গভীর আতঙ্কে নিমজ্জিত।
দীপকের পরিবারের পাশাপাশি দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে মন্দিরতলা এবং চক ফুলডুবি এলাকাতেও। জানা গেছে, সাগরের এই সমস্ত এলাকা থেকে বেশ কিছু যুবক বর্তমানে দুবাইতে আটকে রয়েছেন। প্রিয়জনদের নিরাপত্তা এবং তাদের দ্রুত ফিরে পাওয়া নিয়ে প্রশাসনের কাছে কাতর আবেদন জানিয়েছে পরিবারগুলি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে সাগর ব্লক প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে এবং আটকে থাকাদের ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ব্লক অফিসে একটি ২৪ ঘণ্টার বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।বিদেশে আটকে থাকা যুবকদের বর্তমান অবস্থান এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন আধিকারিকেরা।আতঙ্কিত পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আটকে পড়া যুবকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্চপর্যায়ে সমস্ত ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
দীপক সহ অন্যান্য যুবকদের দ্রুত ঘরে ফেরার প্রতীক্ষায় বর্তমানে দিন গুনছেন পরিজনেরা। এলাকার সাধারণ মানুষও এই বিপদে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের আশায় রয়েছেন। এই বিষয়ে সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায় জানান, ব্লকে ২৪ ঘন্টা কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এই রুম থেকে নজরদারি চালাবেন সিভিল ডিফেন্স এর কর্মীরা এবং ব্লক অফিসের আধিকারিকেরা। যারা এখনো পর্যন্ত আটকে রয়েছে তাদের পরিবারের লোকেরা যেন এসে দ্রুত এই কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করে এবং তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ধরনের পরিবারকে সহযোগিতা করা হবে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে।” অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য সন্দীপ কুমার পাত্র জানান, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে শুধু দুবাই না বিভিন্ন জায়গায় সাগরের একাধিক যুবক রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূত্রে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের মহেন্দ্রগঞ্জ হরিণবাড়ি মন্দিরতলা চক ফুলডুবি সহ একাধিক জায়গার যুবকেরা রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এলাকায় গুলিতে খুব সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা বিভিন্ন পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে যে সকল পঞ্চায়েত এলাকা গুলিতে যুবকেরা এইরকম বাইরে রয়েছে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে হেল্প রুম খোলা হয়েছে। ওখানে সবাইকে যা খবর বাঙ্কারের মধ্যে রেখেছে। গতকাল বোম পড়া কিছুটা কমেছে। বিভিন্ন দূতাবাসের যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। সাগরের যে সমস্ত যুবকেরা রয়েছে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারা যদি বাড়ি ফিরতে চায় সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে।”



