Saturday, March 7, 2026
spot_img

চুঁচুড়ায় কল্পতরু উৎসব

মলয় সুর: ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব দক্ষিণেশ্বর থেকে কাশীপুর উদ্যানবাটিতে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য আসেন। ঠাকুরের গলায় কর্কট রোগ ধরা পড়েছে। অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি সব রকমের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতের সন্ন্যাসী ভক্তেরা পালা করে দিনরাত্রে ঠাকুরের সেবা করে চলেছেন, তার সাথে গৃহী ভক্তমণ্ডলী ঠাকুরকে দেখতে আসেন। বেশি কথা বলা ডাক্তারের মানা, তাই ঠাকুর খুব কম কথা বলেন দুই একজনের সাথে।

এমতাবস্থায় ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের পয়লা জানুয়ারি বেলা ১১টা নাগাদ আলুথালু কাপড়ে ঠাকুর দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামলেন। ঠাকুরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কেই ভক্তরা আলোচনা করছেন। ঠাকুরকে নীচে নামতে দেখে ভক্তরা তাঁকে ঘিরে ধরে। ঠাকুর অভয় মুদ্রায় বকুল গাছের নিচে দাঁড়িয়ে বলেন “কার কি চাওয়ার আছে এই বেলা চেয়ে নাও”। ভক্তরা যে যার কামনা বাসনার কথা ঠাকুরকে বলেন। ঠাকুরও ‘তথাস্তু’ বলে তা অনুমোদন করেন। সেইদিন থেকেই কল্পতরু দিবস পালিত হয়। সেদিনই ঠাকুরের সেই বিখ্যাত উক্তি— ‘চৈতন্য হোক’।

রামকৃষ্ণদেবের কল্পতরু অবতার আক্ষরিক অর্থ হল এমন একটি গাছ যার নিচে দাঁড়িয়ে যা কামনা করা যায় বৃক্ষ তা পূরণ করে। এই উপলক্ষে চুঁচুড়া সুগন্ধ্যা কামদেবপুরে শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা মন্দিরে বৃহস্পতিবার কল্পতরু উৎসব পালিত হয়। এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অরিন্দম ধর যিনি আধ্যাত্মিক জীবন দর্শনে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কৃপাপ্রাপ্ত শিষ্য। এদিন দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণী মন্দিরের কল্পতরু উৎসবের অনুকরণে এখানে হোম, যজ্ঞ পূজা পাঠ হয়। এদিন ভোরবেলায় মঙ্গল আরতি দিয়ে শুরু হয়। অমৃত কথা পরিবেশন করেন রামকৃষ্ণ মঠ ও বেলুড় মঠের শ্রীমৎ স্বামী বলভদ্রানন্দজী মহারাজ। এদিন ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন সঙ্গীত শিল্পী অভিনন্দা ধর। এরপর রামকৃষ্ণ কথামৃত পূজা পাঠ চ দুপুরে ভোগ ও প্রসাদ বিতরণ হয়। সন্ধ্যায় কীর্তন,  বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহকারে দিনভর চলে নানা অনুষ্ঠান। নানা প্রান্ত থেকে প্রচুর ভক্তদের সমাগম ঘটে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles