Home Uncategorized ক্ষুদ্র খামারিদের আয় বৃদ্ধিতে বৈজ্ঞানিক প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষ নিয়ে তিনদিনের কর্মসূচি

ক্ষুদ্র খামারিদের আয় বৃদ্ধিতে বৈজ্ঞানিক প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষ নিয়ে তিনদিনের কর্মসূচি

0

নিজস্ব প্রতিনিধি: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা এবং টেকসই আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈজ্ঞানিক প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষকে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে আজ, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে তিনদিনব্যাপী একটি মানবসম্পদ উন্নয়ন (HRD) কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতি, ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয় ও বাজার-নির্ভরতার চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য কেবলমাত্র জীবিকা নির্বাহের গণ্ডি পেরিয়ে কীভাবে বৈজ্ঞানিক প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য স্থায়ী ও টেকসই আয়ের পথ তৈরি করা যায়, সেই বিষয়টি বাস্তবমুখীভাবে তুলে ধরা।
প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান চর্চার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অব অ্যানিম্যাল অ্যান্ড ফিশারি সায়েন্সেস (WBUAFS)-এর অধীনস্থ ডিরেক্টরেট অফ রিসার্চ, এক্সটেনশন অ্যান্ড ফার্মস (DREF)। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মার্স’ হোস্টেল, DREF প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রশিক্ষণার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন।
সকাল ১১টায় ফুলের স্তবক অর্পণ ও উত্তরীয় প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন প্রফেসর শুভাশিস বটব্যাল, ডিরেক্টর, DREF, WBUAFS। স্বাগত ভাষণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষক-কেন্দ্রিক গবেষণা, সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ড ও মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রশিক্ষণের ভূমিকার উপর আলোকপাত করেন।
এরপর বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর পার্থ দাস। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন, এই সমন্বয়ই কৃষকদের বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ দেন ড. প্রদীপ দে, ডিরেক্টর, ICAR–ATARI জোন–৫, কলকাতা। তিনি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির (KVK) ভূমিকা, আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির সফল অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর ড. টি. কে. দত্ত। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “বৈজ্ঞানিক প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষ বর্তমান সময়ে গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।” তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও কৃষকদের স্বার্থে এই ধরনের বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ড. কেশব চন্দ্র ধারা। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষে রোগ ব্যবস্থাপনা, উন্নত জাত নির্বাচন এবং সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে এই জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. টি. কে. দত্ত। উদ্বোধনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ড. বিমল কিনকর চাঁদ, যুগ্ম অধিকর্তা, DREF, WBUAFS।
এই তিনদিনের HRD কর্মসূচিতে রাজ্যের বিভিন্ন কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র (KVK)-এর বিজ্ঞানী ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত কর্মীরা অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণ পর্বে পশুপালন ও মৎস্যচাষের আধুনিক প্রযুক্তি, রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন খরচ হ্রাস, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং বাজার সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বিশদভাবে আলোচনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে কর্মরত প্রযুক্তিবিদরা আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন, যার প্রত্যক্ষ সুফল পৌঁছবে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কাছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক প্রাণীপালন ও মৎস্যচাষের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে এই তিনদিনের HRD কর্মসূচি এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ছবি: বুদ্ধদেব মিশ্র

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version