উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনারপুর : আবার অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকলো সোনারপুর। উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের দিয়ে ধরে আনিয়ে পিটিয়ে অসুস্থ করলো এক ছাত্রকে টিচার ইনচার্জ।বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ঐ ছাত্র। সোনারপুর থানার রামকমল বিদ্যাপীঠে ঘটে গেল এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও ভয়ানক ঘটনা।অভিযোগ,ছুটি হয়েযাওয়ার পর ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে উঁচু ক্লাসের ছাত্রদের দিয়ে ধরে আনিয়ে ফাঁকা স্কুলে বেধড়ক মারধর করেন স্কুলের টিচার ইনচার্জ জ্যোতির্ময় মণ্ডল। প্রাইভেট টিউশন পড়তে যাওয়ার পথে তাকে জোর করে স্কুলে ডেকে পাঠিয়ে পেটানো হয় বলে অভিযোগ।ঐ ছাত্র বর্তমানে গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে।অভিযোগ জানিয়েও কোনও সহযোগিতা মেলেনি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে,বরং হুমকি দেওয়া হয়েছে ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেওয়ার।আর এই ঘটনায় সোনারপুর থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ।সোনারপুর থানার কালিকাপুর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের গায়ে এই রামকমল স্কুল। শনিবার স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পর, ছাত্রটি যখন প্রাইভেট টিউশন পড়তে যাচ্ছিল, সেই সময় হঠাৎ তাকে স্কুলে ডেকে পাঠানো হয় অভিযোগ,সেখানে আগে থেকেই টিচার ইনচার্জ জ্যোতির্ময় মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজের নির্দেশে উঁচু শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রকে দিয়ে ওই ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রকে ধরে আনিয়ে এনে নিজের উপস্থিতিতে বেধড়ক মারধর করেন।স্কুল তখন প্রায় ফাঁকা ছিল। কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা উপস্থিত ছিলেন না। একেবারে নির্জন পরিবেশে ছোট্ট শিশুটিকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, তা শুনে শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা।আর এই ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই ছাত্র। শরীরের বিভিন্ন অংশে, হাত, পা, কনুই এমনকি পিঠ এবং বুকেও চোটের দাগ স্পষ্ট। রক্ত জমাট বাঁধা কালশিটে দাগ ছড়িয়ে পড়েছে গোটা শরীরে। তাকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়,যেখানে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ওই ছাত্র মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম আঘাতপ্রাপ্ত।এই ঘটনার খবর পেয়ে ছুটে আসেন ছাত্রের মা। হাসপাতালে ছেলের শরীর দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। অভিযোগ, এরপর তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাঁকে কোনও সহযোগিতা করা হয়নি। বরং উল্টে হুমকি দেওয়া হয়,অতিরিক্ত করলে তোমার ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দেব।আর এই বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা।তারা বলেন,ছুটি হয়ে যাওয়ার পর কেন ছাত্রকে স্কুলে ডাকা হয়েছিল শিক্ষক ইনচার্জের কী এমন কাজ ছিল যে ছাত্রকে পেটাতে হলো?ঐ ছাত্র এখন আর স্কুলে যেতে চাইছে না। আতঙ্কে বারবার কাঁদছে। তার মা বলেন,ছেলে এখনও আতঙ্কে কাঁপছে। রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে ওর। ও বলছে, আর কোনওদিন স্কুলে যাবে না।আর এই ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে সোনারপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।তবে এব্যাপারে টিচার ইনচার্জ জ্যোতির্ময় মণ্ডলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।আর এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ, টিচার ইনচার্জকে বাঁচাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছে।আর এই ঘটনায় প্রশাসনের তরফে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন ছাত্রের পরিবার এবং স্থানীয়রা।
