সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : ভৌগোলিক অবস্থান এবং নদী-বেষ্টিত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে সাগরদ্বীপের বাসিন্দাদের কাছে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া বরাবরই এক বড় চ্যালেঞ্জ। সামান্য রক্ত পরীক্ষা বা রোগ নির্ণয়ের জন্য অনেক সময় মূল ভূখণ্ডে ছুটতে হতো দ্বীপবাসীকে। সাধারণ মানুষের সেই দীর্ঘদিনের অভাব ও সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের অর্থানুকূল্যে সাগর গ্রামীণ হাসপাতালে অত্যাধুনিক ব্লক পাবলিক হেলথ ইউনিট -এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো। আনুমানিক ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে চলা এই ইউনিটটি সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাগরের বিডিও কানাইয়া কুমার রায়, সাগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সাবিনা বিবি, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ শান্তনু হালদার, এবং স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সুতনু মাইতি সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সাগরদ্বীপের বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল স্থানীয় স্তরে উন্নত রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের। মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা জানান, “সুন্দরবনের মানুষের সমস্যার কথা মুখ্যমন্ত্রী সবসময় গুরুত্ব দিয়ে ভাবেন। এই বি.পি.এইচ.ইউ ইউনিটটি চালু হলে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা থেকে শুরু করে মহামারী নিয়ন্ত্রণ—সবই এখন দ্বীপের ভেতরে সম্ভব হবে।” আধুনিক সরঞ্জাম সমৃদ্ধ ল্যাবে দ্রুত রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া বা যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। পরীক্ষার জন্য আর নদী পেরিয়ে কাকদ্বীপ বা কলকাতায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।ব্লকের প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সাগরদ্বীপের কয়েক লক্ষ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় উন্নত জনস্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর ফলে দ্বীপের সাধারণ মানুষ বাড়ির কাছেই আধুনিক এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ব্যবস্থা পাবেন, যা জরুরি অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে।
