সুভাষ চন্দ্র দাশ,ক্যানিং: গ্যাস বুকিং এর জন্য নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করলেই জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই রুটের সমস্ত লাইন ব্যস্ত আছে। বারবার চেষ্টা করেও মিলছে না গ্যাস বুকিং। গ্রামে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে গ্যাস বুকিং করতে সমস্যা হচ্ছে আরো বেশি। তার উপর ৪৫ দিন ধরে কোন বুকিং মিলবে না এই খবর পাওয়ার পর সমস্যায় পড়েছেন গ্রামের মানুষজন। এমনিতেই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস পৌঁছায় বাসন্তী বা ক্যানিং থেকে। সেই সমস্ত এলাকাগুলিতে যে গোডাউন আছে সেই গোডাউনে আপাতত দেখা দিয়েছে আকাল। গ্যাস অফিসে এসে খোঁজ নিয়েও মিলছে না কোন সমাধান সূত্র। নৌকা বা ভুটভুটি ভর্তি হয়ে খালি গ্যাস সিলিন্ডার গুলি গোডাউনে আসলেও ভর্তি কোন সিলিন্ডার আপাতত বের হচ্ছে না গোডাউন থেকে। যা স্টক আছে তাতে মাত্র কয়েক দিন চলতে পারে বলেই জানাচ্ছেন গ্যাস সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী ভোলা মোল্লা বলেন গ্রামের মানুষজন গ্যাস নিয়ে কিছুটা সমস্যায় পড়েছে। তবে সুবিধা হল গ্রামের মানুষের বিকল্প জ্বালানি আছে। যখনই সমস্যা তৈরি হয় তখন বিকল্প জ্বালানির উপর নির্ভর করে চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। এটা শহরের মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। গ্রামীন বিভিন্ন গ্যাস ডিলার সূত্রে খবর বিভিন্ন এলাকার গ্যাস বুকিং করলে পুনরায় তারা আবার তিন মাস পরে গ্যাস বুকিং করেন। অনেক সময় গ্যাস বুকিং করে সেগুলো আবার অন্যত্র বিক্রিও করে দেন। অনেক সময় এমনও দেখা গেছে গ্যাস বুকিং করার পর গ্যাসের ভ্যান বাড়িতে গ্যাস ডেলিভারি দিতে যাওয়ার পরও সেই গ্যাস আবার ফেরত আনতে হয়েছে। কারণ খালি সিলিন্ডার না থাকার কারণে। বর্তমানে বহু মানুষ প্রয়োজন ছাড়াই বুকিং করতে শুরু করেছেন। আর এর ফলে একটা কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে।
তবে সব জায়গা পরিস্থিতি সমান নয়। বিভিন্ন এলাকার মানুষজন গ্রামে বসবাস করলেও তাদের জ্বালানির জন্য নির্ভর করতে হয় গ্যাসের উপরে। এমনকি যারা গ্রামের ভাড়া বাড়িতে থাকেন তাদেরও নির্ভর করতে হয় পুরোপুরি গ্যাসের উপরে। ফলে সমস্যা তৈরি হয়েছে উপসাগরীয় যুদ্ধের পরিস্থিতির কারণে। আর কেন্দ্রের ৪৫ দিনের নির্দেশিকা তাতে আরও সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। হলে পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে তা বুঝে উঠতে পারছেন না গ্রামের মানুষজন। আর তাই গ্যাসের ভরসা ছেড়ে অনেকেই বিকল্প জ্বালানির উপর জোর দিতে শুরু করেছেন।
