সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং : দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে পাচারের আগেই তিন নাবালিকা উদ্ধার। এমন রোমহর্ষক ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।উল্লেখ্য প্রতিনিয়ত কাজের প্রলোভন এবং অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করার প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে সুন্দরবন এলাকার একাধিক নারী,নাবালিকা সহ মানব পাচারের ঘটনা নতুন নয়।পাচার চক্রের সাথে জড়িত গ্যাংদের ধরার জন্য ও তৎপর পুলিশ প্রশাসন। তবে এমন রোগের নিরাময়ের জন্য কোন প্রকার কিনারা করে উঠতে পারেনি প্রশাসন। যদিও সচেতনতা এবং প্রচারের কোন খামতি নেই প্রশাসনের। জানা গিয়েছে বাসন্তীর তিন নাবালিকা নাচ করতে বিহারে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কে বা কারা নিয়ে যাবে সে সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোন তথ্য ছিল না । এমন খবর গোপন সুত্রে পৌছায় বাঁশড়া বিরঙ্গনা সেবা সমিতি ও দিগম্বরপুর অঙ্গীকার নামক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মকর্তাদের কাছে। গোপন সুত্রে এমন খবর পেয়ে বাঁশড়া বিরঙ্গনা সেবা সমিতি’র একটি টীম বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহষ্পতিবার সকাল পর্যন্ত ক্যানিং বাজার ও ক্যানিং ষ্টেশন এলাকায় নজরদারী শুরু করে। বৃহষ্পতিবার সকাল থেকে হাজীর হয় দিগম্বরপুর অঙ্গীকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার একটি টীম। যৌথ ভাবে নজরদারী চালাতে থাকে। ইতিমধ্যে সকাল ১০ টা বেজে ৫০ মিনিটে ক্যানিং থেকে আপ শিয়ালদহ ট্রেনে চেপে বসে ওই তিন নাবালিকা। খবর পেয়ে চলন্ত ট্রেনেই উঠে পড়েন দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। তালদি ষ্টেশনে ট্রেন ঢোকার আগেই তিন নাবালিকা কে ধরে ফেলেন।নামানো হয় ট্রেন থেকে। ক্যানিংয়ে নিয়ে আসা হয়। তুলে দেওয়া হয় রেল পুলিশের হাতে। রেল পুলিশ তিন নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখান থেকে সোনারপুরের এক হোমে পাঠানো হয় তিন নাবালিকা কে।
জানা গিয়েছে, নাচ করার জন্য ওই নাবালিকাদের বিহারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পারিশ্রমিক হিসাবে প্রতি রাত ২৫০০ টাকা হিসাবে চুক্তি। বারুইপুর এলাকার বাবু সোনা নামে এক যুবক নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরী ছিল বলে নাবালিকাদের বয়ান অনুযায়ী পুলিশ জানতে পেরেছে। যদিও মাঝপথেই সমস্তটাই ভেস্তে যায়। ধরা পড়ে যায় তিন নাবালিকা। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ। অন্যদিকে পাচারের আগেই দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এমন কর্মকান্ড প্রকাশ্যে আসতেই সাধারণ মানুষ কুর্ণিশ জানিয়েছে দুই সংস্থাকে। যদিও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীদের দাবী ,‘পাচার মুক্ত সমাজ গড়তে গিয়ে বেশকিছু মানুষের আক্রোশের মুখে পড়তে হচ্ছে।তবে জনসাধারণ কে স্বতঃষ্ফুর্ত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সমাজ থেকে এমন মারণ ব্যধি দূর করে পাচার মুক্ত সমাজ গড়তে হবে।



