মলয় সুর, গুসকরা : সাত-আট বাড়ির কাজ। ভোর থেকেই দৌড়ঝাঁপ, এক বাড়িতে রান্নাবান্না তো অন্য বাড়িতে গৃহস্থালীর যাবতীয় কাজকর্ম সামলানো। মাসের শেষে সব বাড়ি থেকে মাহিনা প্রাপ্তি। বিয়ের পর থেকেই কলিতা মাঝির এটাই ছিল রোজনামচা। সেই পরিশ্রমী পরিচারিকার আজকের ‘ধন্যি মেয়ে’ হয়ে ওঠা। সেই পরিচারিকা আজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবাসন বিভাগের প্রতিমন্ত্রী , লালবাতি জ্বলা গাড়িতে তিনি ঘুরছেন, সঙ্গে চার-পাঁচজন দেহরক্ষী। অনেকটা রূপকথার নায়িকার মতো। লোকের বাড়িতে কাজ করতে করতেই রাজনীতিতে আসা। পরিশ্রম আর সততার জোরে লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা। তাই আজ সকলেই মুখর কলিতার উত্থানে। গুসকরা পৌরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে মাঝপুকুরে পাত্রপাড়ায় কলিতাদের ছোট বাড়ি। পরিশ্রম আর সততা থাকলে যে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় সেটা কলিতা দেখিয়ে দিয়েছেন। মন্ত্রী হয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে কলিতার। কিন্তু “যাঁরা আমার দুর্দিনে পাশে ছিলেন, তাঁদের স্নেহ-ভালোবাসা আমি ভুলতে পারব না।” কয়েক মাস আগেও পার্শ্ববর্তী বাড়িতে কাজ করতেন কৃষ্ণা পাত্রর বাড়িতে। বেশ কয়েক বছর ধরেই কৃষ্ণার সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কৃষ্ণাদেবী বলেন, অত্যন্ত ভালো মেয়ে, সততা রয়েছে তাঁর মধ্যে। এক স্থানীয় বাসিন্দা বললেন, তাকে যতটুকু জানি তার ওপর ভর করে বলতে পারি তিনি বদলে যাওয়ার নয়, নিজে খুব অভাবের মধ্যে বাপের বাড়িতে বড় হয়েছেন। স্বামীর সংসারে এসেও চরম অনটনের মধ্যে দিন কাটিয়েছেন, কিন্তু কোনো প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি কলিতাকে।
