Home Uncategorized নীরব সমাজসেবায় উন্নত ডক্টরেট সম্মানে ভূষিত ডক্টর বনকুমার হালদার

নীরব সমাজসেবায় উন্নত ডক্টরেট সম্মানে ভূষিত ডক্টর বনকুমার হালদার

0

উত্তম কর্মকার,কুলপি: সমাজ পরিবর্তনের পথে নীরবে কাজ করে যাওয়া মানুষদের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে প্রকৃত সমাজনায়কের পরিচয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের চকদুলালপুর গ্রামের এমনই এক নিবেদিতপ্রাণ সমাজকর্মী ডক্টর বনকুমার হালদার। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মানবসেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে তিনি নিরলসভাবে সমাজের নানা স্তরে কাজ করে চলেছেন।
২০০৭ সালে কুলপি গ্রামীণ হাসপাতালে কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর থেকে আজ পর্যন্ত নিষ্ঠা, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ডঃ হালদার। কর্মক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা ও সহানুভূতিশীল মনোভাব তাঁকে সর্বমহলে সুপরিচিত ও প্রশংসিত করেছে। শৈশবকাল থেকেই সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ও মানবকল্যাণের আকাঙ্ক্ষা তাঁকে সমাজসেবার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। গ্রামীণ জীবনের দারিদ্র, অজ্ঞতা ও স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়ই তাঁর কর্মজীবনের দিশা নির্ধারণ করে।
প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, নারী ও শিশু কল্যাণ—সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই দীর্ঘদিনের সমাজসেবার স্বীকৃতি স্বরূপ গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে দিল্লির অশোক হোটেলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ভারত গৌরব রত্ন শ্রী সম্মান অ্যাওয়ার্ড কাউন্সিল-এর পক্ষ থেকে সম্মানীয় অতিথিদের হাত থেকে তিনি উন্নত ডক্টরেট সম্মানে ভূষিত হন।
কোভিড-১৯ অতিমারির সময় তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। চারবার নিজে কোভিড আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও এবং মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে দুই দাদাকে হারিয়েও তিনি সমাজসেবা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে কোভিড যোদ্ধা হিসেবে রূপক পদক ও সার্টিফিকেটে সম্মানিত হন।
কুলপি গ্রামীণ হাসপাতালে কাজ করার পাশাপাশি তিনি চকদুলালপুর ‘অরুণোদয়ের সংঘ’-এর সেক্রেটারি হিসেবেও সমাজকল্যাণমূলক নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি ইউনিসেফ-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে পোলিও এডুকেশন প্রোগ্রাম ও এসবিসিসি প্রকল্পের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধ, অল্পবয়সি মাতৃত্ব প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। টিএন সাউথ ২৪ পরগনার অধীনে কুলপি ব্লকে তাঁর এই কর্মকাণ্ড বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
সমাজকে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে রোটারি ক্লাবের সহযোগিতায় ভ্যান বিতরণ কর্মসূচি, গ্রামীণ এলাকায় শৌচালয় নির্মাণসহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। যদিও দীর্ঘ সমাজসেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে একাধিক সম্মাননা লাভ করেছেন, তবুও তাঁর কথায়—মানুষের বিশ্বাস ও ভালোবাসাই জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ডক্টর বনকুমার হালদারের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে নিঃস্বার্থ সমাজসেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version