Friday, March 6, 2026
spot_img

নানা ভোট প্রশ্নে উত্তাল বাংলার মন

নিজস্ব প্রতিনিধি: চলতি ফেব্রুয়ারি মাস নিয়ে বাংলায় এখন কৌতূহলের শেষ নেই। মানুষের মন প্রতিনিয়ত খুঁজছে নানা প্রশ্নের উত্তর। প্রথমত, নির্বাচন কমিশন ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঘোষণা করলেও এসআইআর নিয়ে যে অব্যবস্থা চলছে তাতে সকলেই জানতে চায় এই দিনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা যাবে তো? দ্বিতীয়ত, শেষমেষ কত ভুয়ো ভোটার বাদ পড়তে চলেছে, তা নিয়েও নিম্ন থেকে উচ্চ মহলে জল্পনার শেষ নেই। তৃতীয়ত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন কবে ঘোষণা হতে পারে এবং কত দফায় ভোট হবে তাও জানতে বাঙালির মন আনচান করছে। এসআইআর পর্ব শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রাজ্যে রাজনৈতিক চাপান উতোরও শুরু হয়েছিল। শাসক দল কিছুতেই এসআইআরকে সমর্থন করেনি। এমনকি এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে নিজেই শুনানি করেছেন। এখন আবার তারাই এসআইআর এর দিন বাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার। সুপ্রীম কোর্ট ৭ দিন অতিরিক্ত সময় ধার্য করলেও জাতীয় নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনও বেচাল বরদাস্ত করা হবে না। এসআইআর সম্পন্ন করতেই হবে
এবং তারপরেই নির্বাচন ঘোষণা করা হবে। প্রথমত, ঠিক ছিল যে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। কিন্তু কর্মীর অভাবে সেই কাজ ঠিক সময়ে শেষ না হওয়ায় এখনো পর্যন্ত কমিশন সূত্রে যা জানা যাচ্ছে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রথমদিকে সেভাবে কর্মী দিয়ে সহযোগিতা করেনি। যার ফলে শুনানিতে প্রচুর মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়। শেষের দিকে রাজ্য সরকার ৮৫০০ জন কর্মী দিলেও সেই তালিকা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, সে বিতর্ক মিটবার আগেই হয়তো এসআইআর পর্ব শেষ হয়ে যাবে এবং আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়ে যাবে।
এবার প্রশ্ন হল যে অনেকেই আশা করেছিলেন ভুয়ো ভোটার এবং মৃত ভোটার বাদ দিলে এ রাজ্যে প্রায়
১ কোটি ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, এসআইআর পর্ব চলাকালীনই প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ গেছে। শুনানিতে প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ উপস্থিত হননি। অর্থাৎ এমনিতেই ৬৩ লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ চলে যাওয়ার সম্ভাবনা। আরো যে সমস্ত তথ্য সামনে আসছে তাতে অনুমান করা যায় ৭০ থেকে ৭৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যেতে পারে। এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে তা দেখে নির্বাচন কমিশনও হতভম্ব। যেমন মেটিয়াবুরুজের মনোয়ারা বিবি নামে এক মহিলার ১০টি বাচ্চা আছে যাদের জন্ম নাকি ১ বছর থেকে ৬ মাসের মধ্যে। এছাড়াও পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে যা নির্বাচন কমিশনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। এবার মানুষের মনে প্রশ্ন হল, ভোট কবে ঘোষণা করা হবে এবং কত দফায় হবে? সম্প্রতি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও মনোজ আগরওয়াল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে মিটিং করে কলকাতায় ফিরেছেন। রাজ্য কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তারা জানিয়েছিল রাজ্যে যদি ২৯৪টা আসনের জন্য একদিনে ভোট হয়।

তার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত আছে। শুধুমাত্র বাহিনীকে যথাযথভাবে সরবরাহ করতে হবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে। তবে যা জানা যাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচন কমিশন এ রাজ্যে এক দফায় নির্বাচন করাতে রাজি নয় কারণ এ রাজ্যে সাধারণ নির্বাচন মানেই হিংসা, মারপিট, খুন, জখম। তাই জাতীয় নির্বাচন কমিশন ১ দফায় ভোট করার ঝুঁকি নেবে না। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআর পর্বের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার পর ১ ও ২ মার্চের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকবৃন্দ কলকাতায় আসবেন। সমস্ত কিছু দেখে যাবার পর তারা দিল্লিতে রিপোর্ট দেবেন। তারপর ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যেজাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ কলকাতায় এসে জেলাশাসক, সিআরপিএফ বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে মিটিং করার পর দিল্লিতে ফিরে গিয়ে ১০ মার্চ সাংবাদিক সম্মেলন করতে পারে। সেদিন থেকেই আদর্শ আচরণ বিধি লাগু হয়ে যাবার কথা। কমিশন সূত্রের খবর ১২ থেকে ২৫ এপ্রিলের মধ্যে এ রাজ্যে ২ থেকে ৩ দফার ভোট হতে পারে এবং ভোটের গণনা এপ্রিল মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে আসা করা যায়। এখন দেখার ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসআইআর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগে সব ঠিকঠাক চলে কিনা। আবার যদি কোন অব্যবস্থা আরো প্রকট হয়ে ওঠে তাহলে এই সমস্ত হিসাব ঘেঁটে যেতে পারে। তবে এরাজ্যের অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ মানুষও যথেষ্ট সন্দীহান শেষমেশ যদি এসআইআর পর্ব সফল না হয় তাহলে কি এ রাজ্যে আগামী বিধানসভা নির্বাচন রাষ্ট্রপতি শাসনের মাধ্যমেই হতে চলেছে!
প্রসঙ্গত, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ এবং হিংসা মুক্ত করার জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনও বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। যেমন এ রাজ্যের কলকাতা সহ ৭টি জেলায় ৭৮ টি বহুতল আবাসনে যেখানে ৩০০-র বেশি ভোটার আছে সেখানে একটি করে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা হবে। দক্ষিণ কলকাতা, উত্তর কলকাতায় ২ টি করে এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ২৫ টি আবাসনে এই ধরনের ভোট কেন্দ্র হবে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা কেন্দ্র হিসেবে প্রাধান্য দিতে চাইছে জেলা শাসকের কার্যালয়। যদি সেখানে সম্ভব না হয় তাহলে মহকুমা শাসকের দপ্তরে গণনা করতে হবে এবং এই সমস্ত দপ্তরগুলিতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী দিতে হবে। ইতিমধ্যেই ভিভিপ্যাট, ইভিএম মেশিন পরীক্ষাও শেষ হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশন সবদিক দিয়েই কোমর বেঁধে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নামতে চলেছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles