Friday, March 6, 2026
spot_img

গঙ্গাসাগরের মায়াপুরে বাগদেবীর আরাধনা আজ শুধুই ধূসর স্মৃতি! ধুঁকছে ভগ্ন স্কুল, বাড়ছে গ্রামবাসীর ক্ষোভ।

সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর: চারদিকে যখন ঢাকের আওয়াজ আর কচিকাঁচাদের ভিড়ে সরস্বতী পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, তখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরের মায়াপুর জুনিয়র হাইস্কুল যেন এক অভিশপ্ত কঙ্কাল। এক সময় যে স্কুলে ধুমধাম করে বাগদেবীর আরাধনা হতো, আজ সেখানে কেবলই আগাছা আর ভাঙা জানলা-দরজার স্তূপ। গত ৪-৫ বছর ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় ধুঁকছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।​স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ অবহেলা আর অব্যবস্থার কারণেই আজ এই দশা। অভিযোগের আঙুল মূলত দুটি দিকে: শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসতেন না। ফলে পঠনপাঠন লাটে উঠেছিল। পড়াশোনার মান কমতে থাকায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে সন্তানদের পাশের স্কুলগুলোতে ভর্তি করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে ছাত্র সংখ্যা শূন্যে ঠেকে এবং এক সময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় স্কুলের ঝাঁপ। এই স্কুল তৈরির জন্য অত্যন্ত আবেগের সাথে নিজের জমি দান করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ভিগুরাম দাস। স্কুলের যাতায়াতের রাস্তার জন্য তিনি জায়গা দিয়েছিলেন এই আশায় যে, গ্রামের ছেলেমেয়েরা শিক্ষিত হবে। এমনকি তাঁর স্ত্রীও এই স্কুলে রান্নার কাজ করতেন। স্কুল বন্ধ হওয়ায় এখন তাঁর পরিবার রোজগারহীন, চরম অভাবের মুখে দাঁড়িয়ে।
​”আমার জমি দিলাম যাতে গ্রামের উন্নতি হয়। এখন স্কুলও নেই, আমার স্ত্রীর কাজও নেই। যদি স্কুল না-ই চলে, তবে আমার জমি আমাকে ফেরত দেওয়া হোক। ​বাংলার আনাচে-কানাচে যখন সব স্কুলে সরস্বতী পুজোর মেলা বসেছে, তখন মায়াপুর জুনিয়র হাইস্কুল দাঁড়িয়ে আছে এক ভগ্নস্তূপের মতো। ঝুরঝুরে দেওয়াল আর ভাঙা জানলার ফাঁক দিয়ে দেখা যায় ধুলো পড়া বেঞ্চগুলো। যে প্রাঙ্গণে এক সময় মন্ত্র উচ্চারিত হতো, সেখানে এখন শুধুই নিস্তব্ধতা। ​গ্রামবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই স্কুলটি সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হোক অথবা দাতা পরিবারকে তাঁদের প্রাপ্য ফিরিয়ে দেওয়া হোক। শিক্ষা প্রশাসনের এই উদাসীনতা নিয়ে এখন এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

1,231FansLike
10FollowersFollow
4SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles