বিশাল দাস, বীরভূম : বীরভূমের রামপুরহাট থানার অন্তর্গত নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুসুমডই গ্রামে দুষ্কৃতীদের আগুন-তাণ্ডবে চাষিদের স্বপ্ন ভস্মীভূত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জমিতে কাটা ধানের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ওই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় ১০–১২ বিঘা জমির পাকা ধান। ক্ষতির পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা বলে দাবি চাষিদের।
গরিব চাষিদের মাথায় হাত, বছরভর পরিশ্রম মুহূর্তে শেষ
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ, দিনভর কেটে আনা ধান জমির উপর গাদা করে রাখা ছিল। রাতে মোটরবাইকে চড়ে এসে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী ধানের গাদায় আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়। গভীর রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনায় কেউ প্রতিরোধ করার আগেই সম্পূর্ণ ধান পুড়ে ভস্মীভূত হয়।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত চাষির কথায়,
“সারা বছরের পরিশ্রম মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল। কীভাবে পরিবার চালাব, বুঝতে পারছি না।”
থানায় অভিযোগ, এখনও গ্রেফতার শূন্য
ঘটনার পর রামপুরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন চাষিরা। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। ফলে এলাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। মাঠজুড়ে থাকা পাকা ফসল নিয়ে চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসুরক্ষা-ভাবনা।
চাষিদের পাশে বিজেপি নেতৃত্ব
ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির অন্যান্য নেতা ও কর্মীরা। দগ্ধ ধানের স্তূপ এবং আগুনে নষ্ট হওয়া জমি পরিদর্শন করেন ধ্রুববাবু। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ধ্রুব সাহা বলেন,
“এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। গরিব চাষিদের সর্বনাশ করা হয়েছে। আমরা তাঁদের পাশে আছি এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ
ঘটনার পর কুসুমডই গ্রামে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চাষিরা আশঙ্কা করছেন, মাঠে থাকা আরও ফসল নিয়ে যেকোনও সময় এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের দাবি, পুলিশী টহল বাড়ানো এবং দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হোক।
একজন গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দার কথায়,
“আগুন লাগার এই ঘটনা পরিকল্পিত। পুলিশ যদি দোষীদের ধরতে না পারে, তবে ভবিষ্যতে আরও বড়ো ক্ষতি হতে পারে।”



