Home Uncategorized এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ও আমা দাবলাম বেস ক্যাম্প অভিযান। বাঁকুড়ার দুই শিক্ষকের...

এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ও আমা দাবলাম বেস ক্যাম্প অভিযান। বাঁকুড়ার দুই শিক্ষকের সাফল্য।গণপতি পাল ও ফাইজুল সেখের হিমালয় জয়।

0

“একটি স্বপ্ন, একটি লক্ষ্য—এক পা এক পা করে সাফল্যের শিখরে।”

স্বপ্ন, সাহস, অধ্যবসায় এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসাকে সঙ্গী করে নেপালের হিমালয় অঞ্চলে সফলভাবে সম্পন্ন হলো এভারেস্ট বেস ক্যাম্প (৫,৩৬৪ মিটার) এবং আমা দাবলাম বেস ক্যাম্প (প্রায় ৪,৬০০ মিটার) অভিযান। এই অভিযানে অংশ নেন বাঁকুড়া জেলার হেতিয়া গ্রামের দুই প্রাথমিক শিক্ষক গণপতি পাল ও ফাইজুল শেখ। তাঁদের সঙ্গে আরামবাগ থেকে আরও ছয়জন ট্রেকার যোগ দেন। মোট আটজনের দল একসঙ্গে এই দুঃসাহসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করেন।
১৫ মে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে গাড়ি যোগে সুরকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে দলটি সুরকে পৌঁছায়। পরদিন, ১৬ মে, সুরকে থেকে শুরু হয় প্রকৃত ট্রেকিং যাত্রা। প্রথম দিনের গন্তব্য ছিল ফাকডিং। দুধকোশী নদীর গর্জন, ঝুলন্ত সেতু এবং পাহাড়ি গ্রামের মনোরম পরিবেশ ট্রেকারদের মুগ্ধ করে।
১৭ মে ফাকডিং থেকে যাত্রা করে দলটি পৌঁছায় বিখ্যাত পাহাড়ি শহর নামচে বাজারে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৪৪০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই জনপদকে এভারেস্ট অঞ্চলের প্রবেশদ্বার বলা হয়। এখানকার অপরূপ সৌন্দর্য এবং তুষারাবৃত শৃঙ্গের দৃশ্য অভিযাত্রীদের নতুন উদ্দীপনা জোগায়।

১৮ মে নামচে বাজার থেকে দলটি পৌঁছায় প্যাংবোচে। পথজুড়ে চোখে পড়ে হিমালয়ের অসাধারণ দৃশ্য, বৌদ্ধ মঠ এবং শেরপা সংস্কৃতির অনন্য পরিচয়।
১৯ মে অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য আমা দাবলাম বেস ক্যাম্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর পর্বত আমা দাবলামের পাদদেশে পৌঁছে অভিযাত্রীরা এক অনন্য অনুভূতির সাক্ষী হন। তুষারশুভ্র শৃঙ্গের নীরব মহিমা এবং প্রকৃতির বিশালতা তাঁদের গভীরভাবে স্পর্শ করে।
২০ মে প্যাংবোচে থেকে যাত্রা করে দলটি পৌঁছায় ডিংবোচে। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির রূপও বদলে যেতে থাকে। গাছপালা কমে এসে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে পাথুরে ও তুষারাচ্ছন্ন ভূদৃশ্য।
২১ মে ডিংবোচে থেকে লোবোচে পৌঁছে অভিযাত্রীরা শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি নেন। শারীরিক ক্লান্তি ও উচ্চতার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁদের মনোবল ছিল অটুট।
অবশেষে ২২ মে বহু প্রতীক্ষিত দিন। লোবোচে থেকে দীর্ঘ ও কঠিন পথ অতিক্রম করে দলটি পৌঁছে যায় এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের পাদদেশে দাঁড়িয়ে তাঁরা উদযাপন করেন তাঁদের সাফল্য। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৩৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানো ছিল তাঁদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ।
গণপতি পাল ও ফাইজুল সেখ জানান, এই অভিযান শুধুমাত্র একটি ট্রেক নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। তাঁরা বলেন, “প্রকৃতির বিশালতা, পাহাড়ের নীরবতা এবং প্রতিটি পদক্ষেপে নিজের সঙ্গে লড়াই করার অভিজ্ঞতা আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করেছে। এই সাফল্য আমাদের পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব এবং শুভানুধ্যায়ীদের উৎসাহ ও আশীর্বাদের ফল।”
বাঁকুড়ার হেতিয়া গ্রামের দুই প্রাথমিক শিক্ষকের এই সাফল্য নিঃসন্দেহে জেলার জন্য গর্বের বিষয়। তাঁদের এই অভিযাত্রা আগামী প্রজন্মকে সাহস, অধ্যবসায় এবং স্বপ্নপূরণের অনুপ্রেরণা জোগাবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version