সুমন আদক, হাওড়া: আপাতত হাওড়ার মঙ্গলাহাটের ফুটপাত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কাটল ‘জট’। রাস্তা দখল না করে রাস্তা সম্পূর্ণ ছেড়ে ফুটপাতের গার্ডরেলের ভিতরেই বসলো মঙ্গলবারের মঙ্গলাহাট। রাস্তা ফাঁকা হওয়ায় খুশি পথচারীরাও। জানা গেছে, এখন থেকে এভাবেই প্রতি সোম ও মঙ্গলবার প্রশাসনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতি সেন্ট্রালের মুখপাত্র সুদীপ বিশ্বাস বলেন, ‘আজকে আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। হাট থেকে আমাদের তুলে দেওয়া হবে, বসতে দেওয়া হবে না এই চিন্তায় আমরা সোমবার থেকে খুবই টেনশনে ছিলাম। এই জায়গা থেকে আমরা এখন অনেকটাই রিলিফ হয়েছি। ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের বার্তা, যারা বসবেন তাঁরা সুষ্ঠুভাবে এমনভাবে ব্যবসা করবেন যেন কারও অসুবিধে না হয়। আমরা সুষ্ঠুভাবেই এখানে ব্যবসা করতে চাই।’ অন্যদিকে, হাওড়া মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির (সেন্ট্রাল) সভাপতি মলয় দত্ত বলেন, ‘আমরা আমাদের হাট সংক্রান্ত সমস্যার বিষয় তুলে ধরে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠি লিখে আবেদন জানাই। আমরা ওনাকে জানাই হাট বন্ধ হয়ে গেলে আনুমানিক প্রায় ১২ হাজার দোকানদার এবং এর সঙ্গে যুক্ত সকলে মিলিয়ে প্রায় লক্ষ লোকের রুজি-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর রাত দশটার পর আমাদের জানানো হয় হাট চলবে। তবে, সেক্ষেত্রে প্রশাসনের বেশ কিছু গাইডলাইন এবং নিয়মশৃঙ্খলা মেনে হাট বসতে হবে। এরপর প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের রাতেই এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই গাইডলাইনস মেনেই আজকে মঙ্গলবার সকালে হাট বসে। তার সমস্ত ছবি প্রশাসনের তরফ থেকে ড্রোন ক্যামেরায় তোলা হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, হাট বন্ধ হচ্ছে না।

আজ মঙ্গলবার যে নিয়মে হাট বসেছে নিয়মশৃঙ্খলা মেনে সেভাবেই আগামী দিনও হাট চলবে। কিন্তু কোনওভাবেই রাস্তা জুড়ে বা ফুটপাত বন্ধ করে হাট বসানো যাবে না। ‘ব্ল্যাকটপ’ ছেড়ে রাস্তার শেষ প্রান্তে ফুটপাতের ভিতরে বসেই ব্যবসা করতে হবে। রাস্তা এনক্লোচ করা যাবেনা। আজকে এই নিয়মে হাট করার পর রাস্তা পরিষ্কার ছিল। প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে এই নিয়মে ব্যবসা করলে হাট বন্ধ করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের জন্য মঙ্গলাহাট ব্যবসায়ী সমিতির তরফ থেকে আমরা শমীক ভট্টাচার্য সহ হাওড়া জেলা প্রশাসন, ট্রাফিক সহ পুলিশের সকল আধিকারিকদের অভিনন্দন জানাই।’ প্রসঙ্গতঃ সোমবার মঙ্গলাহাটের সব ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে বৈঠকে বসেন হাওড়া সিটি পুলিশের ট্রাফিক আধিকারিকরা। ওই বৈঠকেই সংগঠনগুলিকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে এবার থেকে রাস্তায় নয় ফুটপাতে বসে ব্যবসা করতে হবে। রাস্তায় বসে ব্যবসা করা চলবে না। গাড়ি যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করা চলবে না। মঙ্গলবার সকালে যথারীতি মঙ্গরাহাট বসে। তবে হাজার হাজার ব্যবসায়ীদের এদিন আর রাস্তায় বসতে দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা রেলিং এর ভিতরের ফুটপাতে বসেন। এতে রাস্তা অনেকটা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় বাড়ে গাড়ির গতি। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে শুরু হয় মাইকিং। মাইকে ঘোষণা করা হয় ব্যবসায়ীরা যেন রাস্তা ছেড়ে ফুটপাতে বসে। পুলিশের এই ঘোষণায় খুশি ব্যবসায়ীদের বড় অংশ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন কোনওভাবেই গাড়ি আটকে ব্যবসা করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তবে জায়গা অনেকটা কমে যাওয়ায় খদ্দেরদের পছন্দমতো জিনিস দেখাতে তাঁদের কিছুটা অসুবিধা হয়েছে।