সুমন আদক, হাওড়া: এবার সর্বসম্মতিক্রমেই শুক্রবার হাওড়া জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেত্রী সহ এদিন মোট ৩৬ জন সদস্যের উপস্থিতিতে গোপা ঘোষকে সভাধিপতি এবং তুষার কান্তি ঘোষকে সহকারী সভাধিপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হলো। তুষার ঘোষ দাবি করেন, যারা এদিন আসতে পারেননি বাকিদেরও তাঁদের প্রতি ‘সমর্থন’ রয়েছে। প্রসঙ্গতঃ রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর হাওড়া জেলা পরিষদে নির্বাচিত হলো নতুন সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি। শুক্রবার হাওড়া জেলা পরিষদে তৃণমূলের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে গোপা ঘোষকে সভাধিপতি এবং তুষার ঘোষকে সহ-সভাধিপতি হিসাবে নির্বাচিত করেন। এর আগে গত জুন মাসে তৃণমূল পরিচালিত হাওড়া জেলা পরিষদের বেশিরভাগ সদস্যই সভাধিপতি কাবেরী দাস এবং সহ-সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, সরকারি প্রকল্পে কাটমানি সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়। যদিও দুজনেই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে দুজনেই তাদের পদ থেকে ইস্তাফা দেন। এর প্রেক্ষিতেই শুক্রবার নতুন সভাধিপতি এবং সহ-সভাধিপতি হিসেবে গোপা ঘোষ এবং তুষার ঘোষকে সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত করেন তৃণমূলের সদস্যরা। হাওড়া জেলা পরিষদে মোট ৪২ জন সদস্যর মধ্যে ৪১ জন তৃণমূল এবং একজন বিজেপির। এদিন বিরোধী দলের প্রতিনিধি সহ ৩৬ জন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রিসাইডিং অফিসার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সচিব ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী। এদিন হাতে সার্টিফিকেট পাওয়ার পর তুষার ঘোষ বলেন, ‘রাজ্য সরকার এই জেলা পরিষদকে সবরকমভাবে সহযোগিতা করবে। এই সরকারের সব উন্নয়নমূলক প্রকল্প জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাস্তবায়িত করা হবে। হাওড়ার ১৫৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতকে তাদের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে ভাগ করে উন্নয়ন করা হবে। যেখানে হাইরাইজ বিল্ডিং হচ্ছে বা দ্রুত নগরায়ণ হচ্ছে, সেখানকার চাহিদা অনুযায়ী নিকাশি ব্যবস্থা, আবর্জনা নিষ্কাশন, বিউটিফিকেশন ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। আবার গ্রামীণ এলাকায় সেখানকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী কাঁচা রাস্তা পাকা করা এবং ছোট-বড় নানা পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হবে। আমতা এবং উদয়নারায়ণপুরের মতো বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলোর খাল সংস্কারের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকার দেখছে। তবে দুর্যোগের সময়ে জেলা পরিষদ সম্পূর্ণভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে এবং শহর অঞ্চলের পঞ্চায়েতগুলোকেও তাদের ন্যায্য ডেভলপমেন্ট ফান্ড দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করবে।’ এদিন সভাধিপতি গোপা ঘোষ বলেন, ‘সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পরেই জেলা পরিষদের দপ্তর বন্টন করা হবে। আমরা রাজ্য সরকারের সমস্ত মানবিক প্রকল্প এবং উন্নয়নের ধারার মাধ্যমে কাজ করব। রাজনৈতিক রং নির্বিশেষে আমরা শহর এবং গ্রামে জেলা পরিষদের কাজ করব। জেলা পরিষদ কোনও নির্দিষ্ট অংশের নয়। বরং এটি গোটা হাওড়া জেলার। এখানে কোনওরকম পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। সকল জনপ্রতিনিধিরা মিলে রাজনৈতিক রং এবং শহর-গ্রামের ভেদাভেদ ভুলে সমগ্র জেলার উন্নয়নের স্বার্থে একসাথে এগিয়ে যাবেন। রাজ্য সরকারের যে সমস্ত মানবিক প্রকল্প এবং উন্নয়নের ধারা রয়েছে সেগুলোকে মাধ্যম করেই জেলা পরিষদকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।’ অন্যদিকে, এদিন তুষার ঘোষ নিজেদের ‘ভালো’ তৃণমূল কিনা সে ব্যাপারে খোলসা করে কিছু বলেননি। এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি শুধু বলেন, প্রশাসনিক ভবনে দাঁড়িয়ে কোনও রাজনৈতিক কথা বলব না। আমরা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করব।
