Home Uncategorized নিজের বিয়ে নিজেরাই বন্ধ করে জেলাস্তরে কন্যারত্ন পুরষ্কার পেল সুন্দরবনের ২ স্কুল...

নিজের বিয়ে নিজেরাই বন্ধ করে জেলাস্তরে কন্যারত্ন পুরষ্কার পেল সুন্দরবনের ২ স্কুল ছাত্রী

0

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং : পরিবারের চাপেই বিয়ের পিড়িতে বসতে বাধ্য করা হয়েছিল।বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছিল সুন্দরবনের দুই স্কুল ছাত্রী।স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তৎপরতায় বন্ধ হয় বিয়ে। আবারও পড়াশোনায় ফিরে আসে তারা। এমন সাহসিকতার জন্য এবার কন্যারত্ন দিবসে ‘কন্যারত্ন’ পুরষ্কার পেল সুন্দরবনের দুই ছাত্রী।

সুস্মিতা সাঁফুই। ক্যানিংয়ের মিঠাখালির বাসিন্দা তথা বর্তমানে ক্যানিং দ্বারিকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। দশম শ্রেণীতে পড়াকালীন প্রতিবেশী ও নিকট আত্মীয়রা তাকে বিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয়।বিয়েতে বেঁকে বসে ওই ছাত্রী।যখন সম্বন্ধ পাকা, বিবাহ নিশ্চিৎ বুঝতে পারে। তখন আর দ্বিধা না করে সুস্মিতা এমন ঘটনার কথা ‘দিগম্বরপুর অঙ্গীকার’ নামক সংস্থার শিশু সুরক্ষা কর্মীদেরকে জানায়।খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসে ওই সংস্থা।   

তাঁরাও বিলম্ব না করে স্থানীয় থানা ও পঞ্চায়েতকে অবহিত করে।  

থানা ও পঞ্চায়েত যৌথ ভাবে সুস্মিতার মা কে ডেকে পাঠায়, বাল্যবিবাহের কুপ্রভাব সম্বন্ধে তাঁকে জানায় ও তাঁকে দিয়ে আন্ডারটেকিং ফর্মে স্বাক্ষর করায়।যাতে লেখা হয় আগামীতে তার বিয়ের বয়স না হওয়া পর্যন্ত তারা এই ধরণের কোনো কাজ করবে না।ব্যস বিয়ে বন্ধ হয়। হাঁফ ছেড়ে বাঁচে ক্ষুঁদে ওই স্কুল ছাত্রী। 

বর্তমানে সুস্মিতা কন্যারত্ন পাচ্ছে, সফল ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে  এবং একাদশ শ্রেণির পড়াশোনা করছে। 

তার সাথে সে টেইলারিংয়ের কাজ শিখে , ছোটোখাটো কাজ করে তার বাবা-মার পাশে দাঁড়িয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ নিজে কিছুটা জোগাড় করছে।

অন্যদিকে বাসন্তী ব্লকের অন্তর্গত ঢুঁড়ি জনপ্রিয় নগর জনপ্রিয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী হাবিবা মোল্লা।তার বান্ধবী ৮ নম্বর তীতকুমার গ্রামের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া মোল্লা।

চলতি বছর ২০ মে সুরাইয়ার বিয়ে ঠিক করে পরিবারের লোকজন।এমন খবর শুনে হাবিবা বান্ধবীর বিয়ে আটকাতে সরাসরি বাসন্তী থানায় ফোন করে।অন্যদিকে এমন খবর জানতে পারে ‘গরাণবোস গ্রাম বিকাশকেন্দ্রে’ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা। প্রশাসনের তৎপরতার বন্ধ হয় নাবালিকা বিয়ে।হাবিবা এমন সাহসিকতার জন্য কন্যারত্ন দিবসে কন্যারত্ন পুরষ্কার পায়।

শুক্রবার আলিপুর জেলাশাসক ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সুন্দরবনের সাহসী দুই স্কুল ছাত্রীর হাতে কন্যারত্ন পুরষ্কার তুলে দেন জেলাশাসক অভিষেক কুমার তিওয়ারী ও জেলা কন্যারত্ন আধিকারীক সূপর্ণা বিশ্বাস।

সাহসীকতার জন্য বিদ্যলয়ের ছাত্রী কন্যারত্ন পুরষ্কার পাওয়া প্রসঙ্গে  দ্বারিকানাথ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রোকেয়া বেগম জানিয়েছেন,‘সুস্মিতা বরাবরই সাহসী। মেধাবী ছাত্রী। স্কুলেও অন্যান্যদের কে সচেতন করে।জেলাস্তরে কন্যারত্ন পুরষ্কার পেয়ে সুস্মিতা আমাদের তথা স্কুলের মুখ উজ্জ্বল করেছে। ’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version