Home Uncategorized দুর্গাপুজোর আক্ষেপ মিটিয়ে গঙ্গাসাগরে লক্ষ্মীপুজোয় মাতল গ্রাম, শুভ উদ্বোধন করলেন বিধায়ক

দুর্গাপুজোর আক্ষেপ মিটিয়ে গঙ্গাসাগরে লক্ষ্মীপুজোয় মাতল গ্রাম, শুভ উদ্বোধন করলেন বিধায়ক

0

সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর : ​দুর্গাপুজোর আনন্দ থেকে বঞ্চিত থেকে যান বহু মানুষ। আর সেই আক্ষেপ মেটাতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের খান সাহেব আবাদ গ্রামের সুদর্শন মোড়ে অভিনব উদ্যোগে ধুমধাম করে পালিত হলো কোজাগরি লক্ষ্মীপুজো। গ্রামে দুর্গাপুজো না হওয়ায় এই লক্ষ্মীপুজোকেই দুর্গাপুজোর মতো বড়ো উৎসবে রূপ দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। এবছর ৩৩তম বছরে পদার্পণ করল এই সার্বজনীন লক্ষ্মীপুজো। দুর্গাপুজোর মতোই জাঁকজমকপূর্ণ পুজো প্যান্ডেল, বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা এবং মেলার আয়োজনে মেতে উঠেছে পুরো গ্রামীণ জনপদ। ​রবিবার সন্ধ্যায় জাঁকজমকপূর্ণ এই পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সাগর ব্লক কনভেনার সোমনাথ ভূঁইয়া এবং মন্ডল একের মন্ডল সভাপতি চিন্ময় সাউ, মন্ডল টু এর মন্ডল সভাপতি ভোলানাথ মাইতি, মন্ডল তিনের মন্ডল সভাপতি রাজেশ জানা এবং মন্ডল চারের মন্ডল সভাপতি পিনাকী মন্ডল, বিজেপি মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য চঞ্চল চঞ্চল পন্ডা সহ এলাকার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিধায়ক ও অন্যান্য অতিথিদের উপস্থিতিতে এই গ্রামীণ উৎসব এক অন্য মাত্রা পায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গঙ্গাসাগরের খান সাহেব আবাদ গ্রামের সুদর্শন মোড় এলাকায় স্থায়ীভাবে কোনো দুর্গাপুজো হয় না। এর ফলে পুজোর দিনগুলিতে দুর্গা প্রতিমা দর্শন কিংবা বড়ো প্যান্ডেল ঘুরে দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হন গ্রামের সাধারণ মানুষ। দুর্গাপুজোর আনন্দ উপভোগ করতে হলে গ্রামবাসীদের অনেক পথ পাড়ি দিয়ে অন্য এলাকায় যেতে হয়। যাতায়াত ও বয়সের কারণে অনেক প্রবীণ মানুষ এবং শিশু সেই সুযোগ পান না। দুর্গাপুজোর সেই না-পাওয়ার আক্ষেপ আর উৎসবের আনন্দকে গ্রামে ফিরিয়ে আনতে ১৯৯০-এর দশক থেকে এই কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোকে বড়ো করে আয়োজনের ঐতিহ্য শুরু করেছিলেন এলাকাবাসীরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই পুজো আজ এলাকার অন্যতম বড়ো উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ বছর ৩৩তম বর্ষে পা দিয়ে এই লক্ষ্মীপুজো তার আগের সমস্ত ঐতিহ্যকে ছাড়িয়ে গেছে।পুজোর ক’দিন ধরে পুরো সুদর্শন মোড় এলাকা সেজে উঠেছে দুর্গাপুজোর আদলেই।আকর্ষণীয় এবং সুদৃশ্য মণ্ডপ সজ্জার পাশাপাশি গোটা মেলা প্রাঙ্গণ আলোকমালায় ঝলমল করছে। শুধু পুজো মণ্ডপই নয়, মেলা চত্বরে বসেছে নানা ধরনের দোকানপাট। কচিকাঁচা থেকে শুরু করে সব বয়সি মানুষের বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও অন্যান্য রাইড।রবিবার সন্ধ্যায় পুজোর উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে স্থানীয় গ্রামবাসীর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকেও প্রচুর মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার কোজাগরি লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে গোটা খান সাহেব আবাদ গ্রাম জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ঘরে ঘরে পুজোর আনন্দের পাশাপাশি সার্বজনীন এই মণ্ডপ চত্বরটি মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। এলাকার প্রবীণ থেকে শুরু করে যুবসমাজ—সকলেই এই আনন্দ উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, এই পুজো কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি এলাকার সমস্ত মানুষকে একত্রিত করার এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার একটি বড়ো মাধ্যম। ​বিধায়ক সুমন্ত মণ্ডল এই ধরনের গ্রামীণ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। সার্বিকভাবে, দুর্গাপুজোর অনুপস্থিতিকে দূরে সরিয়ে রেখে গঙ্গাসাগরের এই গ্রামের মানুষ কোজাগরি লক্ষ্মীপুজোকে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব আনন্দের নজির সৃষ্টি করলেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version