Home Uncategorized কলকাতায় RISE Conclave 2026-এর উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং...

কলকাতায় RISE Conclave 2026-এর উদ্বোধন করবেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং CSIR-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. জিতেন্দ্র সিং

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (CSIR)-এর চারটি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়কারী অধিকর্তা আজ কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে RISE Conclave 2026-এর ষষ্ঠ সংস্করণের ঘোষণা করেন। আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর সল্টলেকে CSIR-IICB-তে এই দু’দিনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

CSIR-CGCRI, CSIR-IICB, CSIR-CMERI এবং CSIR-IMMT যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে। “Driving Innovation & Entrepreneurship for Viksit Bharat 2047” বিষয়কে সামনে রেখে এই সম্মেলনে স্টার্টআপ, শিল্প সংস্থা, শিক্ষাক্ষেত্র, উদ্ভাবক এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রের বিভিন্ন অংশীজন একত্রিত হবেন।

সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখেন কলকাতার CSIR-CGCRI-এর অধিকর্তা প্রফেসর বিক্রমজিৎ বসু, কলকাতার CSIR-IICB-এর অধিকর্তা প্রফেসর বিভা ট্যান্ডন, ভুবনেশ্বরের CSIR-IMMT-এর অধিকর্তা ড. রামানুজ নারায়ণ এবং দুর্গাপুরের CSIR-CMERI-এর অধিকর্তা ড. নরেশচন্দ্র মুর্মু। তাঁরা দু’দিনের সম্মেলনের উদ্দেশ্য, পরিসর এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্রগুলি তুলে ধরেন।

ড. রামানুজ নারায়ণ বলেন, “সারা ভারতে ৩৭টি জায়গায় CSIR-এর উপস্থিতি রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং বিকশিত ভারতের ভাবনায় এ বছর RISE-এর মাধ্যমে আমরা স্টার্টআপ ক্ষেত্রের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হচ্ছি। কলকাতা একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহর এবং পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ করিডরও রয়েছে। RISE-এর ভাবনা চারটি ‘M’–এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি—Minerals, Medicine, Materials এবং Machines। IIT খড়্গপুর, স্টার্টআপ এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিও পরিচালনা করা হচ্ছে।”

প্রফেসর বিভা ট্যান্ডন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে আমরা চাই বিজ্ঞান ও শিল্প একসঙ্গে কাজ করুক। এটি RISE Conclave-এর ষষ্ঠ সংস্করণ এবং এবার ওড়িশার অংশগ্রহণকারীদেরও যুক্ত করা হবে। সম্মেলনে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। ইতিমধ্যেই ১৫০-রও বেশি স্টার্টআপ যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে এমন স্টার্টআপও রয়েছে, যাদের এখনও শুধু প্রুফ অফ কনসেপ্ট রয়েছে। বস্তুত, ৮০০-রও বেশি অংশগ্রহণকারী আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১,০৬২টি নাম নথিভুক্ত হয়েছে।”

প্রফেসর বিক্রমজিৎ বসু বলেন, “আমাদের জাতীয় নীতি হল Startup India এবং Stand-Up India। স্টার্টআপগুলির মেন্টরিং প্রয়োজন এবং CSIR সেই সহায়তা দিতে পারে। শিল্প ও MSME-র সঙ্গে স্টার্টআপগুলির যোগাযোগের জন্য RISE একটি আদর্শ মঞ্চ। আমরা যদি এই ধরনের একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বিকশিত ভারতের ভাবনা বাস্তবায়নে তা সহায়ক হবে।” ড. নরেশচন্দ্র মুর্মুও এই পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বের কথা বলেন।

RISE Conclave-এ গবেষক, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ, শিল্প সংস্থা, MSME, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিনিয়োগকারী, ইনকিউবেটর এবং নীতিনির্ধারকদের এক মঞ্চে আনা হবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর, লাইসেন্স প্রদান, বাণিজ্যিকীকরণ, বিনিয়োগ, ইনকিউবেশন এবং বৃহত্তর পরিসরে প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে। দু’দিনের কর্মসূচিতে কারিগরি অধিবেশন, স্টার্টআপ প্রযুক্তি উপস্থাপনা, প্যানেল আলোচনা, প্রযুক্তি-সংযোগ বৈঠক, বিনিয়োগকারী ও ইনকিউবেশন সংক্রান্ত মতবিনিময় এবং B2B বৈঠক থাকবে।

সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, ৪M থিম্যাটিক কাঠামো—Minerals, Medicine, Materials এবং Machines। চারটি অংশগ্রহণকারী CSIR গবেষণাগারের পরস্পর পরিপূরক প্রযুক্তিগত সক্ষমতার প্রতিফলন এই কাঠামোয় রয়েছে। একইসঙ্গে সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োগের সম্ভাবনাযুক্ত দেশীয় প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনও প্রদর্শিত হবে।

মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং CSIR-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. জিতেন্দ্র সিং। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী এবং CSIR-এর মহাপরিচালক ও বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা দফতরের (DSIR) সচিব ড. এন. কলাইসেলভি-র।

RISE Conclave 2026-এর মূল লক্ষ্য হল বৈজ্ঞানিক গবেষণা, শিল্প এবং উদ্যোগের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা এবং দেশীয় গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D)-র ফলাফলকে বাজারের উপযোগী প্রযুক্তি, পণ্য এবং উদ্যোগে দ্রুত রূপান্তরিত করা।

বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা এবং স্টার্টআপ ক্ষেত্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে গবেষণাগারে তৈরি দেশীয় উদ্ভাবনকে বাজারে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর ভারতের প্রবৃদ্ধি ও বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যে অবদান রাখাই এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version