Home Uncategorized ১৯৬০-এর প্রেক্ষাপটে আসছে নতুন ছবি “পরবাসী” — এক ঐতিহাসিক যাত্রার মানবিক কাহিনী।

১৯৬০-এর প্রেক্ষাপটে আসছে নতুন ছবি “পরবাসী” — এক ঐতিহাসিক যাত্রার মানবিক কাহিনী।

0

১৯৬০ সালের অস্থির সময়কে পটভূমি করে নির্মিত হয়েছে নতুন বাংলা ছবি “পরবাসী”। একগুচ্ছ তারকা শিল্পীকে নিয়ে ছবিটি পরিচালনা করেছেন মনেট রায় সাহা।
ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন লোকনাথ দে, কিঞ্জল নন্দ, দেবপ্রতিম দাসগুপ্ত, স্বাতী মুখার্জী ও সবুজ বর্ধন। তাঁদের সঙ্গে আরও রয়েছেন একাধিক নামী অভিনেতা-অভিনেত্রী। ইতিমধ্যে ছবির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে।

“পরবাসী”–র গল্প শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকের পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ)-এ ধর্মীয় নিপীড়নের এক ভয়াবহ সময়ে। প্রাক্তন মুক্তিযোদ্ধা নীমাই, তাঁর পরিবারকে নিয়ে নিরাপত্তার সন্ধানে ভারতে পাড়ি জমান। যাত্রাপথেই তাঁর কন্যা অসীমা হারিয়ে যায়—যা গোটা পরিবারের জীবনকে চিরতরে বদলে দেয়।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ত্রিপুরায় এসে তাঁরা আশ্রয় পান পুনীরাম নেতৃত্বাধীন এক আদিবাসী গ্রামে। ধীরে ধীরে নীমাই স্থানীয় শিশুদের পড়ানো শুরু করেন এবং পরিবার নতুন জীবনে খাপ খাইয়ে নিতে থাকে। এদিকে নীমাইয়ের ছেলে অতুল, পুনীরামের কন্যা ফুলমতিকে ভালোবেসে বিয়ে করে, যা দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্ককে জটিল করে তোলে।

এরই মাঝে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে ক্রমাগত শরণার্থী আগমনে স্থানীয় আদিবাসীরা জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। কিছু বিপথগামী যুবকের হিংস্রতায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়তে থাকে বিভাজন ও সংঘাত।

এক সময় ভাগ্যের অপ্রত্যাশিত মোড়ে, অসীমার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন ঘটে—যে এখন বাংলাদেশে “অসীমা বেগম” নামে পরিচিত। কিন্তু এই পুনর্মিলনও আনন্দের নয়, বরং আত্মপরিচয়ের দ্বন্দ্বে এক গভীর মানসিক ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।

অভিবাসী ও আদিবাসীদের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই রক্তাক্ত পরিণতি নেয়। একাধিক শোকাবহ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভেঙে পড়ে নীমাইয়ের সংসার, আর শেষে তিনি আবারও এক অনিশ্চিত পথে যাত্রা করেন—নতুন আশ্রয়ের সন্ধানে।

ছবিটি প্রযোজনা করছে পূর্ব দিগন্ত ফিল্ম প্রোডাকশন, প্রযোজক অনিল দেবনাথ।
ছবির সঙ্গীত পরিচালনায় রয়েছেন অমিত চ্যাটার্জি, চিত্রগ্রাহক জায়েস নায়ার।
গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শান, ইমন চক্রবর্তী, মেখলা দাসগুপ্ত ও ইকশিতা প্রমুখ।

খুব শীঘ্রই “পরবাসী” বড়পর্দায় মুক্তি পেতে চলেছে—এক অনবদ্য মানবিক গল্প, ইতিহাস ও আবেগের মেলবন্ধনে।

ছবিটি ৩১তম কলকাতা চলচিত্র উৎসবে প্রতিযোগিতা মূলক বিভাগে মনোনীত হয়েছে। ৭ই নভেম্বর নন্দন, ৯ই নভেম্বর ষ্টার থিয়েটার (বিনোদিনী) ও ১০ই নভেম্বর মেট্রো সিনেমা হলে ছবিটি প্রদর্শীত হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version