সুভাষ চন্দ্র দাশ, বাসন্তী : আবারও নদী বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বিপর্যয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে। হোগল নদীর বাঁধ ভেঙে নদী গর্ভে তলিয়ে গেল প্রায় ১০ থেকে ১২টি বসতবাড়ি। ঘটনাটি ঘটেছে বাসন্তী থানার অন্তর্গত বাসন্তী গ্রাম পঞ্চায়েতের রাধাবল্লভপুর সংলগ্ন সজিনাতলা এলাকায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েকদিনের ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডব এবং লাগাতার বৃষ্টির জেরে হোগল নদীতে জলের চাপ বাড়ছিল।এদিন রাতে আচমকাই রাধাবল্লভপুর সজিনাতলা এলাকায় নদী বাঁধের একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে যায়।
ঘুমন্ত অবস্থায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০ থেকে ১২টি মাটির বাড়ি নদীর জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে নদী গর্ভে তলিয়ে যায়। বহু পরিবারের আসবাবপত্র, হাঁস-মুরগি জলে ভেসে গিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বাসন্তী থানার পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা। দুর্গত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের জন্য শুকনো খাবার এবং ত্রিপলের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। সেচ দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাঁধ বাঁধার কাজ চালাচ্ছেন।
তবে এই ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, এই নদী বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। বাঁধের কোনও স্থায়ী সংস্কার হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই একই ঘটনা ঘটে। কিন্তু নদী বাঁধ নিয়ে কারও কোনও হেলদোল নেই। কবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন অসহায় গ্রামবাসীরা।
আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।
