
নিজস্ব প্রতিনিধি : উদ্বোধনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভেঙে পড়েছিল হিংলো নদীর উপর নির্মিত কজওয়ের একাংশ । একইসঙ্গে নদীর জলের তোড়ে ধুয়ে গিয়েছিল সংযোগকারী রাস্তা । ফলে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল । ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় ব্যাপক ক্ষোভ । ২১ আগস্ট ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্রের বিধায়ক অনুপকুমার সাহা । খয়রাশোল ব্লকের বাবুইজোড় গ্ৰামপঞ্চায়েতের গহরাকুড়ি এলাকায় ডব্লিউবিএসআরডিএ-র উদ্যোগে হিংলো নদীর উপর কজওয়েটি নির্মাণ করা হয়েছিল । প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৯৭ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা । ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের মার্চে নির্বাচনের ঠিক আগে কজওয়েটি চালু করা হয় । দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছিল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে কিন্তু চালু হওয়ার কয়েকমাসের মধ্যেই ১৭ ও ১৮ আগস্ট টানা বৃষ্টিতে হিংলো নদীতে জলস্তর বেড়ে যায় । প্রবল স্রোতের ধাক্কায় কজওয়ের একাংশ ভেঙে পড়ে । পাশাপাশি ধুয়ে যায় সংযোগকারী রাস্তার বেশ কিছু অংশ । ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের একাধিক গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়ে । বর্তমানে আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার পক্ষ থেকেই কজওয়ে ও সংযোগকারী রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে । দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে । ২১ আগস্ট ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিধায়ক অনুপকুমার সাহা । স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি তিনি সরেজমিনে পুরো এলাকা পরিদর্শন করেন । বিধায়ক জানান, “কজওয়ের নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে । নির্মাণে কোনো ত্রুটির কারণেই এত অল্পসময়ের মধ্যে কজওয়েটি ভেঙে পড়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করি ।
বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলির পাশাপাশি জেলাশাসককে জানানো হয়েছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে । যে সংস্থা নির্মাণকাজ করেছে তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করতে হবে । তবে শুধু সাময়িক মেরামতি করলেই হবে না নির্মাণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোটা কাজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একইধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয় ।” প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কজওয়ে উদ্বোধনের মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই কেন ভেঙে পড়ল নির্মাণকাজে কোনো গাফিলতি বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে । প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা ।