Home Uncategorized ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে রুয়ানগরের মুখাও নৌকা

ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে রুয়ানগরের মুখাও নৌকা

0

তপন চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মহিষবাথান গ্রাম হস্তশিল্পের জন্য শুধু নিজস্ব জেলায় বিখ্যাত নয়, এখানকার হস্তশিল্প রাজ্য পেড়িয়ে বিদেশের বাজারেও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছে । রুয়ানগর গ্রামের শংকর সরকার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার মুখা শিল্পের জনক বলেই সবার কাছে পরিচিত। প্রয়াত বিশিষ্ট মুখা শিল্পী শংকর সরকারের হাতেই মহিষবাথান শিল্প সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠা হলেও বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই সমবায় সমিতির গোডাউন কাম ওয়ার্কশপ তৈরি করা হয়েছিল। এক সময় এই শিল্প সমবায় সমিতিতেই কাজ করতো রুয়ানগরের বাসিন্দা টুলু সরকার এবং নন্দীচন্দ্র সরকার। কিন্তু সারাদিন পরিশ্রম করেও সেই ভাবে পারিশ্রমিক না পাওয়ায় এক সময় শিল্প সমবায় সমিতির কাজ ছেড়ে নিজের বাড়িতে দুই ভাই এবং দুই ভাইয়ের পরিবার পরিজন যথাক্রমে পুতুল দেবশর্মা সরকার এবং কবিতা সরকার স্বতন্ত্র ভাবে হস্তশিল্প সাধনায় লেগে পড়েন।

বর্তমানে ওঁরা সবাই মিলে এমন সব হস্তশিল্পের কাজ করছে যা দেখলেই বাড়িতে নিয়ে যাবার ইচ্ছা করবে সাধারণ মানুষদের। সম্প্রতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রুয়ানগর গ্রামে এই প্রতিবেদক গিয়ে দেখেন এই প্রতিষ্ঠিত হস্তশিল্পীদের নানা সৃষ্টিশীল ক্রিয়াকর্ম। টুলু সরকার বলেন, ‘ছয় বছর বয়স থেকে বাবার কাছে থেকে আমরা দুই ভাই হস্তশিল্পের বিভিন্ন ধরনের কাজ শিখেছি।’ টুলু সরকার এবং নন্দীচন্দ্র সরকার একযোগে জানান, তারা কেরালা ও তামিলনাড়ু থেকে কাজের বরাত পেয়ে কাজ করছে। স্বাধীন ভাবে কাজ করার আনন্দই আলাদা। হস্তশিল্পী টুলু সরকারের আরও মন্তব্য, তিনি কেরালা থেকে গামারি কাঠের মুখাও নৌকা বানানোর বরাত পেয়েছেন। এই রাজ্যের চেয়ে ভিন রাজ্যে আমাদের হাতের তৈরি জিনিসের বিক্রি মূল্য অনেক বেশি। আমাদের রাজ্যে আমাদের তৈরি জিনিসের দাম আমরা সঠিক না পেলেও ভিন রাজ্যে আমাদের হস্তশিল্পের দামের কদর বেশি পাই। হস্তশিল্পী নন্দীচন্দ্র সরকারের স্ত্রী পুতুল দেব শর্মা সরকার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার বিয়ে হয়ে আসার পর থেকেই দেখেছি শ্বশুর বাড়িতে হস্তশিল্পের কাজ চলতো। আমি আসার পরে আমিও কাজ শিখে এখন স্বামীকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে থাকি।’ ঠিক একই রকম ভাবে হস্তশিল্পী টুলু  সরকারের স্ত্রী কবিতা সরকার জানান, স্বামীর বাড়িতে এসেই হস্তশিল্পের পাঠ নিয়েছি। এখন স্বামীর সাথে হাতে হাত লাগিয়ে অনেক কিছুই করতে পারি। আমরা দুই গৃহবধূ ঘরের সমস্ত কাজ সামলেও নিজেদের স্বামীকে সাহায্য করে থাকি।

জানা যায় উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হস্তশিল্পীরা কলকাতার হস্তশিল্প মেলায় যাবার জন্য প্রচুর পরিমাণে তাদের হাতের তৈরি সৌখিন হস্তশিল্প প্রস্তুত করে চলেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version