সুমন আদক, হাওড়া: খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল হাওড়ার বি গার্ডেন আইএইচই আবাসনের ৬৪তম বর্ষের দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। রবিবার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়। উপস্থিত ছিলেন টলিউডের শিশু শিল্পী অভিনব বড়ুয়াও। এদিনের অনুষ্ঠানে দুর্গোৎসবের থিম সং প্রকাশের পাশাপাশি এবারের থিমেরও আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করা হয়। ৬৪তম বর্ষে আইএইচই আবাসনের পুজোর ভাবনা ‘অতি উত্তম’। উত্তম কুমারের শতবর্ষকে সামনে রেখে বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতার জীবন ও শিল্পজগতের নানা অধ্যায়কে কেন্দ্র করে সাজানো হবে এবারের মণ্ডপ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলা ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখার বার্তা দেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তাঁর কথায়, দুর্গাপুজোর জৌলুশ হয়তো কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু দুর্গারাধনার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তি যেন অটুট থাকে। একইসঙ্গে নিজের শিকড়, মাটি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার উপর জোর দেন তিনি। শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, মানুষ যত দূরেই যাক না কেন, নিজের মাটির সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করা উচিত নয়। নিজের সংস্কৃতি থেকে বিচ্যুত হলে নিজের দেশেই পরবাসীর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি নিয়েও এদিন সরব হন পর্যটন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যের সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। নতুন সরকার বাংলার সেই পুরনো সাংস্কৃতিক গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পর্যটন দফতরের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন শঙ্কর ঘোষ। পুজোর দিনগুলিতে বাংলার মানুষকে বাংলাতেই উৎসবের আনন্দে ধরে রাখতে একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এবারের দুর্গোৎসব আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশাবাদী তিনি। এদিন ‘মন্ত্রী’ পরিচয়ের প্রসঙ্গেও নিজের মতামত তুলে ধরেন শঙ্কর ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের পরিচয়ের চেয়ে ক্ষমতার পরিচয় বড় হয়ে উঠলে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর পরিস্থিতিও বদলে যেতে পারে। অতীতে যাঁদের গলায় মালা পরানো হয়েছে, পরবর্তীতে তাঁদের লক্ষ্য করে জুতো বা ডিম ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে—এই প্রসঙ্গ টেনে ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি না থাকার বার্তা দেন তিনি। অন্যদিকে, এবারের পুজোর থিম প্রসঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, উত্তম কুমার বাঙালির কাছে চিরকালীন এবং অদ্বিতীয়। এখনও সময় পেলেই তিনি উত্তম কুমারের সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন। তাই মহানায়কের শতবর্ষকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ভাবনা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে বলেই তাঁর আশা।
আবাসনের দুর্গাপুজোর বিশেষত্বের কথাও তুলে ধরেন তাপস রায়। তাঁর মতে, আবাসনের পুজো মানেই ঘরোয়া পরিবেশে সকলের একসঙ্গে থাকা, খাওয়াদাওয়া এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। এই মিলন, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনই আবাসনের পুজোর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দুই মন্ত্রীর উপস্থিতিতে খুঁটিপুজো, থিম সং প্রকাশ এবং থিমের আনুষ্ঠানিক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এদিন থেকেই বি গার্ডেন আইএইচই আবাসনের ৬৪তম বর্ষের দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি শুরু হল। মহানায়ক উত্তম কুমারকে ঘিরে ‘অতি উত্তম’ ভাবনায় এবার আবাসনের পুজো কতটা দর্শক টানে, সেদিকেই এখন নজর।
