Home Uncategorized বিষাক্ত ধোঁয়ায় হাঁসফাঁস শিশু-মায়েরা, সুপুরে প্লাস্টিক কারখানা ঘিরে উত্তাল বিক্ষোভ

বিষাক্ত ধোঁয়ায় হাঁসফাঁস শিশু-মায়েরা, সুপুরে প্লাস্টিক কারখানা ঘিরে উত্তাল বিক্ষোভ

0

বিশাল দাস, বোলপুর: অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের ঠিক পাশেই প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানা। আর সেই কারখানা থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে নাজেহাল স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশু থেকে গর্ভবতী মহিলা—সকলেই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বোলপুর থানার অন্তর্গত সুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সুপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার উত্তাল বিক্ষোভে শামিল হলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সাফ দাবি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে এই প্লাস্টিক কারখানা অবিলম্বে সরিয়ে নিতে হবে, নইলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সুপুর গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রটি বহু বছর ধরে এখানে চালু রয়েছে। সিপিএম আমল থেকেই এই কেন্দ্রের মাধ্যমে এলাকার শিশু ও গর্ভবতী মহিলারা বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা পেয়ে আসছেন। কিন্তু পরবর্তীতে অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের ঠিক পাশেই একটি প্লাস্টিক ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট তৈরি করা হয়। সেই থেকেই সমস্যার সূত্রপাত বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য ও আবর্জনা এনে ওই ইউনিটে জমা করা হয়। পরে সেগুলি প্রক্রিয়াকরণের সময় তীব্র দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। এর ফলে অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রে আসা ছোট ছোট শিশুদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। একই সঙ্গে গর্ভবতী মহিলারাও ওই কারখানার গন্ধ ও দূষণের কারণে সমস্যায় পড়ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানান, এই দূষণ নিয়ে তারা একাধিকবার পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। লিখিতভাবেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু এতদিনেও প্রশাসনের তরফে কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ। ফলে বাধ্য হয়েই গ্রামবাসীরা একজোট হয়ে কারখানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, “সরকার একদিকে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যের কথা বলে নানা প্রকল্প চালু করছে, অথচ সেই শিশুদের অঙ্গনওয়াড়ী কেন্দ্রের পাশেই এমন দূষণকারী কারখানা তৈরি হতে দেওয়া হয়েছে। এতে বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে খেলা করা হচ্ছে।”
গ্রামবাসীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে এবং প্লাস্টিক বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটটি অন্যত্র সরানো না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version