সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং : পঞ্চপান্ডবের সৌজন্যে প্রাণে বাঁচলেন মৃতপ্রায় বছর আশি বয়সের বৃদ্ধ। না কোন মহাভারতের গল্প নয়। মহাভারতের পঞ্চপান্ডবও নন।পঞ্চপান্ডবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ পার্থসারথী কয়াল,সহকারী সুপার ডাঃ বসুমিতা আঢ্য,সৌরভ দাস,মেডিসিন বিশেষঞ্জ ডাঃ রোহন ঘোষ ও টেকনিশিয়ান শুভেন্দু দাস।ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের এই পঞ্চপান্ডবের তৎপরতায় প্রাণ ফিরে পেলেন প্রত্যন্ত সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের কচুখালি পঞ্চায়েতের ৬ নম্বর কচুখালির বাসিন্দা বৃদ্ধ কমলেশ চক্রবর্তী(৮০)।
জানা গিয়েছে বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ ছিলেন বৃদ্ধ। ইদানিং হার্টের সমস্যা শুরু হয়েছিল তাঁর। পরিবার বলতে স্ত্রী ছাড়া কেউই ছিলেন না। কোন রকমের স্ত্রী ও কয়েকজন প্রতিবেশীর সাহায্যে চিকিৎসার জন্য বৃহষ্পতিবার সকালে ক্যানিং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বৃদ্ধ।হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষঞ্জ ডাঃ রোহন ঘোষের অধীনে চিকিৎসা চলছিল। আচমকা হার্ট ব্লক হয় ওই বৃদ্ধ’র।প্রয়োজন জরুরী ভিত্তিতে অপারেশান।তা না হলে বৃদ্ধ’র মৃত্যু ছিল নিশ্চিত।পরিবারের লোকজন বৃদ্ধ কে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তৎপরতা শুরু করেন। হাসপাতালের চিকিসকরা বৃদ্ধকে ছাড়তে নারাজ। তাঁর প্রাণ বাঁচাতে কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।দেওয়া হয় সিপিআর সার্পোট।অন্যদিকে বৃদ্ধকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়ে মুহূর্তে জরুরী ভিত্তিতে আলোচনা করেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সুপার,সহকারী সুপার,মেডিসিন বিশেষঞ্জ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় বৃদ্ধ’র পরিবারের লোকজনদের কে বুঝিয়ে কলকাতায় পাঠানো হবে। সেই মতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বৃদ্ধ কে কলকাতায় পাঠানো হয়। পথে যাথে বিপদ না হয় তারজন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতাল থেকে সুপারের নির্দেশে রোগীর সাথে টেকনিশিয়ান শুভেন্দু দাস কে পাঠানো হয় সিপিআর সার্পোট দেওয়ার জন্য।রাত আটটা নাগাদ বৃদ্ধকে নিয়ে কলকাতায় রওনা দেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের টেকনিশিয়ান।রাতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জরুরী ভিত্তিতে নীলরতন সরকার হাসপাতালে বৃদ্ধ কমলেশ চক্রবর্তীর হার্ট অপারেশান করা হয়। অপারেশান সফল হয়। বর্তমানে ওই বৃদ্ধ নীলরতন সরকার হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। শুক্রবার এমন খবর ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক মহল আনন্দে উচ্ছ্বাসিত হয়ে ওঠেন।
ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের সুপার জানিয়েছেন, ‘সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার জন্য আমরা বদ্ধ পরিকর। সেই ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ে বৃদ্ধ কমলেশ চক্রবর্তীকে প্রাণে বাঁচানোর জন্য যা যা করণীয় তা করা হয়েছিল।
সহকারী সুপার বসুমিতা আঢ্য জানিয়েছেন, ‘রোগীকে পরিষেবা দিয়ে সুস্থ করে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কাজে আমরা ব্রতী। সেই কাজ করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। আগামী দিনেও এমন কাজ চলতে থাকবে’।
অন্যদিকে হাসপাতালের টেকনিশিয়ান শুভেন্দু দাস জানিয়েছেন, ‘বৃদ্ধ’র হার্ট ব্লক হয়ে গিয়েছিল। জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজন ছিল অপারেশান। সেই মতো রোগীর সাথে ছিলাম সিপিআর সার্পোট দেওয়ার জন্য। বিপদের ঝুঁকি ছিল। তবে বৃদ্ধ কমলেশ চক্রবর্তীকে প্রাণে বাঁচাতে পেরে ভালো লাগছে। আগামী দিনেও এমন ভাবেই পরিষেবা দিয়ে মানুষে জন্য কাজ করতে চাই’।
মৃতপ্রায় বৃদ্ধ’র এমন নাটকীয় ভাবে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার খবর কচুখালি গ্রামে চাউর হতেই,এলাকার মানুষজন চিকিৎসকদের কে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
