সৌরভ নস্কর দক্ষিণ, চব্বিশ পরগনা: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে অবশেষে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে চলেছে।বাংলাদেশের দেওয়া নামানুযায়ী এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অর্ণব’। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ২২ তারিখ অর্থাৎ মঙ্গলবার এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে এবং আগামী ২৩ তারিখ অর্থাৎ বুধবার সকালেই এটি অন্ধপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে। যদিও এই ঘূর্ণিঝড়ের মূল অভিমুখ অন্ধপ্রদেশ ও ওড়িশা উপকূলের দিকে, তবুও এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আবহাওয়া বদলাতে শুরু করেছে। বৃষ্টির পাশাপাশি বইতে পারে তীব্র বেগে ঝোড়ো হাওয়া। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যা জনজীবনকে ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে পূর্ব মেদিনীপুর, সেইসঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেশ কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে নদী ও সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না আবহাওয়াবিদরা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২২ তারিখ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকবে। এই বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে মৎস্যজীবীদের আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। যারা ইতিমধ্যে মাঝসমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন, তাঁদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে এবং ঘাটে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে মাইক প্রচার চালিয়ে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সাগর দ্বীপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে প্রশাসনের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।সাগরে কপিল মুনির আশ্রমের সামনে এবং সংলগ্ন সমুদ্র সৈকতগুলিতে এবং মৎস্যজীবীদের ট্রলারের ঘাটগুলিতে সাগর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মাইকিং চালাচ্ছেন। সমুদ্র উত্তাল থাকায় পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের সমুদ্রের জলে নামতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হচ্ছে।পাশাপাশি, তাঁদের নিরাপদ দূরত্বে এবং সুরক্ষিত স্থানে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে যাঁদের কাঁচা বাড়ি রয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তার কথা ভেবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। শুধু সাগর নয় ফেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পক্ষ থেকে ও নদীপথে মাইকিং করে মৎস্যজীবীদের কে সতর্কীকরণ করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া সংক্রান্ত খবরের দিকে বিশেষ নজর রাখতে এবং প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে চলার আর্জি জানানো হয়েছে।
