নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি : ২০২৬-র বিধানসভা নির্বাচন পশ্চিমবাংলায় দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে যারমধ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথমদফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যের অন্যান্য কয়েকটি জেলার পাশাপাশি বীরভূম জেলাতেও । সেই উপলক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৬ মার্চ দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্রে দলীয় প্রার্থী নরেশচন্দ্র বাউরির সমর্থনে খয়রাশোল গোষ্টডাঙাল মাঠে এক নির্বাচনী সভা করেন ।বীরভূম জেলার ১১ আসনের মধ্যে একমাত্র দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্র আসনটি হাতছাড়া হয়ে বিজেপির দখলে যায় । সেই আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তৃণমূল প্রথম থেকেই ঝাঁপিয়ে পড়েছে । মুখ্যমন্ত্রীও তৃণমূলের হারানো সেই বিধানসভা কেন্দ্রটি থেকেই জেলার বুকে প্রথম ভোট প্রচার শুরু করলেন । মুখ্যমন্ত্রী সভার শুরুতেই স্থানীয় এলাকা সহ জেলাব্যাপী উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন । দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্রের মধ্যে মামা ভাগ্নে পাহাড়কে পর্যটনকেন্দ্রে উন্নতি করা, নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে ডিজিটাল সেন্টার করা, এলাকায় পানীয় জলের প্রকল্প করা হয়েছে,সিউড়ি রাজনগর খয়রাশোল রাস্তার উন্নয়ন সেই সাথে ইলামবাজার ব্রিজ,অজয় সেতু নির্মাণ,খয়রাসোল ব্লকের মধ্যে সংখ্যালঘু মেয়েদের জন্য হোস্টেলের ব্যবস্থা – বীরভূম ধনধান্যে পূর্ণ হয়ে গেছে । মহম্মদবাজার এলাকায় ডেউচা পাচামী কয়লাখনি যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লাখনি । এখানে ১ লক্ষ ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হবে । পাথরখননের কাজ শুরু হয়ে গেছে । জমির ক্ষতিপূরণ যেমন দেওয়া হয়েছে পাশাপাশি চাকরিও দেওয়া হয়েছে । এখানে কয়লাখনি চালু হলে আগামী ১০০বছর বিদ্যুতের অভাব হবে না এমনকি বিদ্যুতের দামও কমে যাবে । আগে হ্যারিকেন জ্বালিয়ে কাজ করতে হতো । লোডশেডিং লেগেই ছিল । আগে লোডশেডিং-র সরকার ছিল । বিশ্বভারতী তথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গুনগান করতে গিয়ে বলেন “বীরভূমের মাটি আন্তর্জাতিক মাটি এখানে আন্তর্জাতিক দেবালয় রয়েছে । প্রকৃতির ছায়ায়, খোলা হাওয়ায় গড়ে তুলেছিলেন আশ্রম । তাদের শিক্ষায় আমরা বড়ো হয়েছি । রবীন্দ্রনাথ,নজরুল, বিবেকানন্দ,রামকৃষ্ণ, নেতাজি সহ সমস্ত মনীষীদের শ্রদ্ধা করি ।” বিজেপির প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন “বিজেপি সেদিন কোথায় ছিল । তোমাদের ব্রেনটাও নগ্ন হয়ে গেছে ।

দেশটা বিক্রি করছে, রেল,সেল,এলআইসি সহ সমস্ত জিনিস বিক্রি করছে । তারাই আবার বড় বড় কথা বলে । কোথা থেকে,কার কাছে কত কি যায়,তাদের মধ্যে জেলাতে আপনাদেরও নেতা কম নয় ।” জনতার উদ্দেশ্যে বলেন “আপনারা লাইন চান না বিজেপিকে বেলাইন করতে চান ? এসআইআরে লাইন,আধার কার্ড অনলাইন,ব্যাংকের লাইন ইত্যাদি ইত্যাদি লাইন বিজেপির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ২ কোটি চাকরি গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে আগামীদিনে গ্যাস পাবেন কিনা জানি না । বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ,মাংস, ডিম খাওয়া যাবে না । বাংলায় কথা বলা যাবে না । বললেই বাংলাদেশী তকমা সেঁটে দেবে,অত্যাচার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে । এসব বিষয়ে কোন পার্টি লড়াই করে নি আমি রাস্তায় থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গেছি লড়াই করেছি । আগামীদিনেও আমি আপনাদের পাশেই থাকবো । বিচারাধীন নামের ৬০% যদি নাম উঠে থাকে তার কৃতিত্ব কিন্তু আমাদের । পরবর্তীতে নাম উঠানো যা আইনের লড়াই চলবে সেক্ষেত্রে আমাদের আইনজীবী লড়বে বিনা খরচে কাউকে কোনো খরচ বহন করতে হবে না । লক্ষীর ভান্ডার,রূপশ্রী,কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী,ঐক্যশ্রী,জয় জোহার ইত্যাদি প্রকল্প চালু রাখতে তৃণমূলকে ভোট দেবেন । সব কাঁচা বাড়িতে পাকা বাড়ি করবো । পানীয় জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হবে । যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ১০০দিনের টাকা, আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দিয়েছে তবুও আমরা আমাদের রাজ্যের টাকা দিয়ে সে কাজগুলোকে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি । তৃণমূল ছাড়া বাংলায় কোনো দল নেই যে বাংলায় আসতে পারে । বিজেপি যে এনআরসি, ডিটেনশন ক্যাম্পের পরিকল্পনা করছে । অতএব সেখান থেকে সতর্ক থাকতে হবে । তাই অন্য নির্বাচন থেকে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে দেব না । আমি একাই একশ । মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে । বিজেপি শুধু জাতির নামে বজ্জাতি,ধর্মের নামে অধর্ম করছে । অতএব যারা লাইন করিয়েছে তাদের বেলাইন করব ।”