হাওড়ার ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার জগদীশপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ‘সরকারি’ ত্রিপল সহ শাড়ি, হকি স্টিক, আতসবাজি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার পুলিশ জগদীশপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের ওই কার্যালয়ে বিডিও-র প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অভিযান চালায় বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিজেপির অভিযোগ, ৪মে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যেই এই সমস্ত সামগ্রী আগাম মজুত রাখা হয়েছিল। জানা গেছে, লিলুয়া পুলিশ আউট পোস্টে জনৈক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগে জানানো হয়, ওই দলীয় কার্যালয়ে সরকারি ত্রিপল বেআইনিভাবে মজুত রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরই শনিবার বিকেল ৩টে নাগাদ লিলুয়া পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায়।

সেখানেই বিপুল পরিমাণ ত্রিপল উদ্ধার হয়। পাশাপাশি উদ্ধার হয় হকি স্টিক সহ আরও বহু জিনিসপত্র। বিজেপি কর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতেই এসব মজুত রাখা হয়েছিল। এছাড়াও দলীয় কার্যালয় থেকে আতশবাজিও উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি’র সহ সভাপতি তথা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে দলের ডোমজুড় কেন্দ্রের প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা বলেন, ‘থানায় এই নিয়ে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। আমাদের প্রশ্ন, সরকারি ত্রিপল তৃণমূলের পার্টি অফিসে কেন মজুত থাকবে ? ত্রিপল, শাড়ি প্রচুর পরিমাণে সেখানে তো ছিলই এর পাশাপাশি ওই পার্টি অফিসে হকি স্টিক এমনকি শব্দবাজিও মজুত ছিল। বিডিও’র প্রতিনিধির উপস্থিতিতে সেগুলো উদ্ধারের পর সিজার লিস্ট করা হয়। এবং পুলিশ তা উদ্ধার করে। আমরা চাই এই বিষয়ে প্রশাসন তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।’ অন্যদিকে, এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এই ঘটনার বিষয়ে বালি-জগাছা ব্লকের বিডিও জানান, থানায় অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ সেখানে গিয়েছিল। থানা থেকে আমাদেরও জানানো হয়েছিল। আমরা আমাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হয়েছে ওটা কোনও পুরাতন ত্রাণসামগ্রী। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।