Home Uncategorized গোসাবার পাঠানখালির ত্রাস তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো আগ্নেয়াস্ত্র সহ...

গোসাবার পাঠানখালির ত্রাস তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুলিশের জালে

0

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং:  সুন্দরবনের গোসাবা ব্লকের পাঠানখালি পঞ্চায়েত। এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ত্রাস সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো ও মনিরুল পৈলান।বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষনা হতেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। এমন কি বাংলাদেশে পালানোর ছক খুঁজছিল বলে অভিযোগ। বৃহষ্পতিবার রাতে জীবনতলা থানার অন্তর্গত খাগড়া গ্রামে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুজনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ।প্রথমে ধৃতদের কে ধরা হয় স্থাধীয় এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে। পরে তাদের কে জিঞ্জাসাবাদ করে লুকিয়ে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে দুটি বন্দুক ও দুটি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।পাশাপাশি পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে একটি সুওমোটো মামলা রুজুর করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজত চেয়ে শুক্রবার আদালতে তোলা হয়।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার’ কিংবা ‘বেতাজ বাদশা’ ঝোড়ো ওরফে সুবিদ আলি ঢালি।অভাবের তাড়নায় একসময় মুরগি ছাগল বিক্রি করাই ছিল তার পেশা।বর্তমানে ১০ একরেরও বেশি জমির উপরে বিশাল বাংলো বাড়ি,খামারবাড়ি, বিঘার পর বিঘা মেছোভেড়ি। গোসাবা, কলকাতা-সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক বাড়ি। এহেন তৃণমূল নেতা সুবিদ আলি ঢালি। তবে ঝোড়ো নামেই এলাকায় বেশি পরিচিত। ঝোড়ো ঢালির রাজনৈতিক কুকীর্তির পাশাপাশি আরও চমকে দেওয়ার মতো রোমান্টিক অন্ধকার জগতের কাহিনী রয়েছে।পাঠানখালি তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি থেকে গোসাবা ব্লক তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি পদে বহাল হয় ঝোড়ো ঢালি।রাজনৈতিক উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে চলতে থাকে জমি দখল, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মীদের উপর অত্যাচার।এমনকি তার বিরুদ্ধে মহিলাদের উপরে যৌন নির্যাতন ও শিশুদের আটকে রাখার অভিযোগ।

সন্দেশখালির সেখ শাহজাহানের মডেলে বহাল ছিল ঝোড়ো। এলাকার মহিলারা সুবিদ আলি ঢালি ওরফে ঝোড়ো ঢালির বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ। তাঁদের দাবি, এলাকার বহু শিশুকে পণবন্দি করে রাখা হত। তারপর সেইসব শিশু’র মায়েদের ঝোড়োর বাংলোয় আসতে বাধ্য করা হত। ঝোড়োর বাংলোয় ওইসব মায়েদের তৃণমূল নেতাদের মদের আসরে নাচতে বাধ্য করা হত। যৌন নির্যাতন থেকে ধর্ষণ পর্যন্ত করা হত। একজন দুজন মহিলা নয়, বহু মহিলা অভিযোগ করছেন, ঝোড়োর রাজপ্রাসাদে না এলে তাদের সন্তানদের মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। পুলিশে গেলে কোনও কাজই হত না।স্থানীয় এক মহিলা বলেন, এলাকার প্রতিটি মহিলার ক্ষোভ রয়েছে এই সুবিদ আলি ঢালির উপরে। অত্যাচার, যৌন নির্যাতন, শিশুদের অপহরণ, কী অভিযোগ নেই ঝোড়োর বিরুদ্ধে? স্থানীয় শিশুদের তুলে এনে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। তা জোরেই তাদের মায়েদের আসতে বাধ্য করা হত। ওর ৪-৫টি বাংলো রয়েছে। সেখানে ওইসব মায়েদের নাচাতো। থানায় গেলে কোনও কাজ হত না। প্রমাণ চাইত। থানাটা ছিল ওর নিজের।অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরী মহিলাদের দেখলেও বিভিন্ন প্রলোভন দেখাত। বলত কাজ দেবো। এসব বলে ঘরে নিয়ে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার করতো। এক মহিলা বললেন, ছেলেকে মার্ডার করবে বলে মাঠে নিয়ে চলে গিয়েছিল। কারও মাথায় বন্দুক ধরা হত, কোনও মহিলার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করা হত। কলকাতা থেকে গোসাবার পাঠানখালির ঝেড়ো ঢালির বাড়ি যেতে গেলে দু’দুটো নদী পেরিয়ে যেতে হত। সেরকম একটি প্রত্যন্ত এলাকায় যেখানে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অত্যন্ত চড়া। সেখানেই গড়ে উঠেছিল ঝোড়ো ঢালির বিশাল সাম্রাজ্য-তিরিশ বিঘে জমির উপরে পাঁচিল ঘেরে প্রসাদ। সেই চত্বরে একাধিক বিল্ডিং। পালাবদলের পর ঢালির লোকজনকে এলাকায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা গা ঢাকা দিয়েছিল। পাত্তা ছিল না সুবিদ আলিরও।বৃহষ্পতিবার রাতে পুলিশ তাকে জীবনতলা থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version