Home Uncategorized উচ্চগতির রেলযাত্রায় ‘পূর্বদয়’ : পশ্চিমবঙ্গ–উত্তর-পূর্বের মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন

উচ্চগতির রেলযাত্রায় ‘পূর্বদয়’ : পশ্চিমবঙ্গ–উত্তর-পূর্বের মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন

0

নতুন বছরের উপহার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গবাসীর জন্য বড় সুখবর দিল ভারতীয় রেল। দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হতে চলেছে হাওড়া–গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে। এই অত্যাধুনিক উচ্চগতির ট্রেন পরিষেবা পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে এবং বিমান ভাড়ার তুলনায় অনেক কম খরচে আরামদায়ক ভ্রমণের সুযোগ এনে দেবে।

বর্তমানে যেখানে এই রুটে অন্যান্য ট্রেনে যাত্রা করতে প্রায় ২০ ঘণ্টা সময় লাগে, সেখানে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন সেই দূরত্ব পাড়ি দেবে মাত্র ১৪ ঘণ্টায়। ফলে যাত্রীদের সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রার নতুন দিগন্ত খুলবে।

রেল সূত্রে জানা গেছে, এই ট্রেনটির নকশা করা হয়েছে ১৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে চলার উপযোগী করে, যাতে দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত গমনাগমন সম্ভব হয় এবং একই সঙ্গে যাত্রীদের আরাম ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

এই স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে—
স্বয়ংক্রিয় স্লাইডিং দরজা, বাধা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, উন্নত সাসপেনশন সিস্টেম, কম্পনহীন যাত্রা, কোচগুলির মধ্যে নমনীয় গ্যাংওয়ে, আধুনিক সিসিটিভি নজরদারি এবং রিয়েল-টাইম যাত্রী তথ্য ও ঘোষণা ব্যবস্থা।

যাত্রীদের আরামের কথা মাথায় রেখে কোচগুলিতে রয়েছে এরগোনমিক ডিজাইনের বার্থ, উন্নত আলো ও নান্দনিক অভ্যন্তরীণ সাজ, প্রশস্ত লাগেজ রাখার জায়গা, মোবাইল ও জল বোতল রাখার ব্যবস্থা, স্ন্যাক টেবিল ও ম্যাগাজিন হোল্ডার। উপরের বার্থে ওঠার জন্য বিশেষ হানিকম্ব ল্যাডার এবং সহায়ক সিঁড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রতিটি বার্থে রয়েছে রিডিং লাইট, ৩-পিন চার্জিং সকেট, ইউএসবি টাইপ A ও C পোর্ট। জরুরি পরিস্থিতিতে গার্ডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য থাকছে এমার্জেন্সি টক ব্যাক ইউনিট (ETBU) এবং যাত্রী অ্যালার্ম পুশ বাটন।

স্বাস্থ্যবিধির দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে রেল। কোচে থাকবে ভ্যাকুয়াম টয়লেট ব্যবস্থা, ভারতীয় ও পশ্চিমী উভয় ধরনের শৌচাগার, দুর্গন্ধমুক্ত ও কম জল ব্যবহারকারী প্রযুক্তি। প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ বার্থ ও শৌচাগার, শিশুদের জন্য বেবি সিটার সুবিধাও রাখা হয়েছে।

প্রথম শ্রেণির এসি কোচে থাকছে গরম জলের শাওয়ার, যা দীর্ঘ রাতের যাত্রায় বাড়তি স্বস্তি দেবে। যাত্রী পরিষেবার জন্য প্রতিটি ট্রেনে থাকবে মিনি প্যান্ট্রি, যেখানে থাকবে বয়লার, কুলার, হট কেস, ফ্রিজ এবং বোতল চূর্ণকারী যন্ত্র।

নিরাপত্তার দিক থেকেও এই ট্রেন অত্যাধুনিক। রয়েছে ট্রেন কলিশন অ্যাভয়ডেন্স সিস্টেম (TCAS), অগ্নি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা, অগ্নিরোধী দরজা, রিয়েল-টাইম সিসিটিভি মনিটরিং এবং আন্তর্জাতিক EN 15227 ক্র্যাশ সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নির্মাণ।

এছাড়াও, কোচ মনিটরিংয়ের জন্য সেন্ট্রালাইজড কোচ মনিটরিং সিস্টেম (CCMS), চালকদের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন, শব্দনিরোধক ব্যবস্থা, এবং ওয়াই-ফাই সুবিধাও থাকবে।

রেল আধিকারিকদের মতে, এই বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চালু হলে পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত হবে, পর্যটন ও ব্যবসা বাণিজ্যে গতি আসবে এবং যাত্রীদের জন্য খুলবে এক নতুন, আধুনিক ও আরামদায়ক রেলযাত্রার যুগ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version