Home Uncategorized আর ভিটেমাটি হারানোর ভয় নেই! ২৫ কোটির স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু গঙ্গাসাগরে,...

আর ভিটেমাটি হারানোর ভয় নেই! ২৫ কোটির স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু গঙ্গাসাগরে, ১২টি বাড়ি সরানোর সিদ্ধান্ত; পরিস্থিতি পরিদর্শনে মন্ত্রী

0

সৌরভ নস্কর, গঙ্গাসাগর: ​সুপার সাইক্লোন ‘আমফান’ ও ‘ইয়াস’-এর মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত নিয়ে প্রতি বছরই আতঙ্কে দিন কাটান সুন্দরবনের মানুষ। বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাসাগরের বঙ্কিমনগর ও সুমতি নগরে প্রতি বছর নদী বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় চাষের জমি ও ঘরবাড়ি। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় পরিবারগুলিকে স্থায়ী সুরক্ষা দিতেই রাজ্য সরকার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল।
​মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় সেচ দপ্তরের উদ্যোগে এই এলাকায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্মানেন্ট নদী বাঁধের কাজ জোর কদমে শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষের আর ভিটেমাটি হারানোর ভয় থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
​বঙ্কিমনগরে ১ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শুক্রবার বঙ্কিম নগরে পরিদর্শনে আসেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সেচ দপ্তর এবং ইডুকেশন দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকেরা।
​জানা গেছে, এই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে প্রায় ১২টি ঘর সরাতে হবে। এর আগেও নদী বাঁধ তৈরির ক্ষেত্রে গ্রামবাসীদের একাধিকবার জমি দিতে হয়েছে, যা পরে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এবার নতুন করে জমি দিতে অনেকেই প্রথমে আপত্তি জানান। তবে গ্রামবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং তাঁদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেই বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছেন স্থানীয় প্রধান ও উপপ্রধান।
​মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরা নিজে গিয়ে এলাকার সমস্ত সুবিধাভোগী গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। মন্ত্রীর আশ্বাসের পর এলাকাবাসীরা অবশেষে বাঁধ তৈরির জন্য জমি দিতে সম্মত হয়েছেন।
​প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে এই অঞ্চলের মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী মুক্তি দিতে সরকার বদ্ধপরিকর। দ্রুততার সাথে স্থায়ী বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ করে এই অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত করাই সেচ দপ্তরের মূল লক্ষ্য।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version