সুমন আদক, হাওড়া: “মা এসেছেন অশুভ শক্তির সঙ্গে কীভাবে লড়াই করতে হয়, তা আবার মনে করিয়ে দিতে। আমাদের অন্তরের অন্ধকার, সমাজে যারা অন্ধকার তৈরি করছে, সেই অন্ধকার দূর না করলে বাড়ির ছোট ছোট লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতীদের হাসিমুখে রাখা সম্ভব নয়।” দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই বার্তা দিলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। মহাপুজোর দ্বিতীয়ায় সোমবার সন্ধ্যায় হাওড়ার ইছাপুর শিয়ালডাঙায় এ পি জি মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করেন তিনি। এবছর পুজো কমিটির ভাবনা ‘অকালবোধন’। মণ্ডপ ও প্রতিমার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, দেবী দুর্গার আগমন শুধু উৎসবের আনন্দ নিয়ে আসে না, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এবং নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার বার্তাও দেয়। তাঁর কথায়, সমাজের অন্ধকার দূর করার পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের মনের ভিতরে থাকা অন্যায় ও অশুভ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধেও লড়াই করতে হবে। সেই সঙ্গে বাঙালির দুর্গাপুজোর ইতিহাস ও সনাতন ধর্মের পরম্পরা সম্পর্কে সচেতন থাকার বার্তাও দেন তিনি। রুদ্রনীল বলেন, ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের হাত ধরেই শরৎকালে দেবী দুর্গার অকালবোধনের প্রচলন হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এই ইতিহাসকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাই ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে মন্তব্য করার আহ্বান জানান তিনি। বিধায়কের বক্তব্য, সৃজনশীলতা ও নতুন ভাবনার পাশাপাশি নিজেদের পরম্পরা ও সংস্কৃতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। মানুষের উচিত নিজেদের ভুল, পাপ ও অন্যায়ের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজেকে শুধরে নেওয়ার অঙ্গীকার করা। সমাজে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার জন্য অশুভ শক্তির বিনাশ কামনা করে সকলকে একসঙ্গে ভালো থাকার বার্তাও দেন তিনি। এদিনের পুজোর ভাবনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এপিজি মেমোরিয়াল পুজো কমিটির কর্ণধার তথা চেয়ারম্যান সন্দীপ মাল বলেন, “শরৎকালের দুর্গাপুজোই আজ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। কিন্তু এই সময়ে দুর্গাপুজোর প্রচলনের সঙ্গে অকালবোধনের যে ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে, তা নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না। রাবণ বধের জন্য শ্রীরামচন্দ্রের দুর্গারাধনা এবং ১০৮টি নীলপদ্মের কাহিনি বাঙালির পুজোর ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই আমাদের এবারের ভাবনা ‘অকালবোধন’।” পুজোকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ থাকবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন সন্দীপ মাল। তাঁর কথায়, “ভয় আউট, ভরসা ইন। মানুষ আগেও পুজো দেখতে বেরোতেন। তবে এবছর তাঁদের মনে আলাদা ভরসা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা থাকবে। এপিজি ক্লাবে আরও বেশি মানুষের ঢল নামবে বলে আমরা আশাবাদী।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুজো কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে ‘অকালবোধন’-এর মধ্য দিয়ে একদিকে দেবী দুর্গার আরাধনার ঐতিহাসিক তাৎপর্য, অন্যদিকে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই ও সমাজের অন্ধকার দূর করার বার্তা তুলে ধরল ইছাপুর শিয়ালডাঙার এপিজি মেমোরিয়াল অ্যাসোসিয়েশনের দুর্গোৎসব।
