হাওড়ায় অরূপ রায়ের পোস্টারে জুতোর মালা, ‘বেইমান-গদ্দার’ বলেও মন্তব্য। এটা তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর কাজ বলে দাবি বিজেপির। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মধ্য হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে এবার এমনই পোস্টারে পড়েছে হাওড়ার নেতাজি সুভাষ রোড, কালী কুন্ডু লেন পেট্রোল পাম্প সহ মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে। পোস্টারে লেখা, “১৫ বছর সাধারণ কর্মীদেরকে বঞ্চনা করে তোলাবাজি, চুরি, খুন, দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়ে আর এখন দিদির সাথেই বেইমানী। বেইমান-গদ্দার অরূপ রায়।” আবার অন্য একটি পোস্টারে লেখা, “জন্মলগ্ন থেকে দিদির দলকে, হাওড়ায় এক এক করে শেষ করে দেওয়ার মূল কাণ্ডারী বেইমান-গদ্দার
অরূপ রায়।” ওই পোস্টার সাঁটা হয়েছে “আমরা দিদির সৈনিক” এর তরফ থেকে। সোমবার সকাল থেকেই অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে ওই পোস্টার দেখে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পথচলতি বহু মানুষও ওই পোস্টার দেখেন। তবে, এই নিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে, রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য এটি শুধুমাত্র প্রতিবাদ নয় দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর দলেরই একাংশের মধ্যে অসন্তোষের খবর প্রকাশ্যে চলে আসে। পরবর্তী সময়ে বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় মূল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরেই তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কদের একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং নিজেকে ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করছেন। তাঁর নেতৃত্বে গঠিত নতুন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন ৫৮ জন বিধায়ক। সেই তালিকায় নাম রয়েছে মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়েরও। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই ঘটনার পরপরই এই পোস্টার-কাণ্ড সামনে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পোস্টারের নীচে “আমরা দিদির সৈনিক” লেখা। অনুমান, তৃণমূলের কোনও গোষ্ঠীর ক্ষোভ থেকেই এই পোস্টার লাগানো হয়ে থাকতে পারে। এই বিষয়ে বিজেপির হাওড়া জেলা সদরের সহ সভাপতি অজয় মান্না বলেন, “মধ্য হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে যে পোস্টার পড়েছে এটা সত্য ঘটনা। উনি তৃণমূলে থেকে সব সুবিধা নিয়ে দুর্নীতির কয়েক হাজার কোটি টাকা বাঁচানোর জন্য এখন অন্য কিছু ভাবছেন। ফলে ওনার দলের লোকেরাই বুঝতে পেরেছেন উনি কি বেইমানি করে গিয়েছেন। এখানে বিজেপির কোনও ব্যাপার নেই। এটা ওদের দলেরই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব।”
