Home Uncategorized রাস্তার ধারে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে কাতরাচ্ছেন বছর ৫০-এর বৃদ্ধ! ফিরেও তাকাল না...

রাস্তার ধারে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে কাতরাচ্ছেন বছর ৫০-এর বৃদ্ধ! ফিরেও তাকাল না কেউ, মানবিকতার নজির গড়ল বাসন্তীর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা

0
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: null;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 39;

সুভাষ চন্দ্র দাশ, বাসন্তী: বাসন্তীর কাঁঠালবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কলতলা। সেখানে রাস্তার একপাশে জরাজীর্ণ, অসহায় অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক বৃদ্ধ। পা দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে পুঁজ, দুর্গন্ধে কাছে যাচ্ছে না কেউ। অথচ সেই অচেনা, অজানা মানুষটাকেই পরম যত্নে বুকে তুলে নিলেন বাসন্তীর কিছু সহৃদয় যুবক ও যুবতী। মানবিকতার এমনই নজির গড়ল তাঁরা।

স্থানীয় সুত্রের খবর, বাসন্তী ব্লকের কাঁঠালবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কলতলা এলাকায় রাস্তার পাশে দীর্ঘক্ষণ ধরে পড়ে ছিলেন বছর পঞ্চাশের এক বৃদ্ধ। তাঁর পরনে ছিল ছেঁড়া, নোংরা পোশাক। শরীর অত্যন্ত দুর্বল, জীর্ণ। পায়ে ছিল গভীর ক্ষত, সেখান থেকে বেরোচ্ছে পুঁজ ও রক্ত। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি।

পথ চলতি বহু মানুষ তাঁকে দেখেও এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় ওই রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সুহানা নাইয়া ও বাপন মোল্লা। 

বৃদ্ধকে ওই অবস্থায় দেখে তাঁরা আর স্থির থাকতে পারেননি।

প্রথমে তাঁরা বৃদ্ধের কাছে যান, তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বৃদ্ধ এতটাই দুর্বল ছিলেন যে নিজের নাম-ঠিকানাও ঠিক মতো বলতে পারছিলেন না। 

এরপর তাঁরা মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রথমে রাস্তার পাশ তুলে আনেন।ঘৃণা নয়, পরম মমতায় বৃদ্ধকে পরিষ্কার করে, তাঁর গা হাত পা ধুইয়ে দিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে দেন। নিজের হাতে খাবার ও জল খাওয়ান।নতুন জামা কাপড় কিনে এনে পরিয়ে দেন। 

বৃদ্ধর পায়ের ক্ষতস্থানটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল। তাই আর দেরি না করে তাঁরা ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে সোজা নিয়ে আসেন ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে জরুরি বিভাগে ভর্তি করিয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

বর্তমানে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধ। চিকিৎসকরা তাঁর পায়ের ক্ষত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়েছেন।  

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, ওই বৃদ্ধ এখনও পর্যন্ত তাঁর নাম, ঠিকানা বা পরিবারের সম্পর্কে কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারেননি। সম্ভবত তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বা বাড়ি থেকে হারিয়ে গিয়েছেন। 

তাঁদের আবেদন, এই বৃদ্ধকে যাতে তাঁর নিজের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য প্রশাসন এবং সংবাদ মাধ্যম এগিয়ে আসুক।

সংস্থার এক সদস্য বাপন মোল্লা বলেন, “আমরা মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। রাস্তায় পড়ে থাকা একজন অসহায় মানুষকে ফেলে যেতে পারিনি। আমরা চাই উনি সুস্থ হয়ে নিজের বাড়ি ফিরে যান। যদি কেউ ওনাকে চিনতে পারেন, দয়া করে ক্যানিং হাসপাতালে বা বাসন্তী থানায় যোগাযোগ করুন। ওনাকে বাড়ি ফেরাতে পারলেই আমাদের এই পরিশ্রম সার্থক হবে।”

বাসন্তীর এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এই মানবিক উদ্যোগকে কুর্নিশ জানিয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ থেকে পুলিশ প্রশাসন সকলেই। যেখানে বহু মানুষ মুখ ফিরিয়ে চলে যায়, সেখানে এই যুবকদের মানবিকতাই আজ বড় দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

এখন দেখার বিষয় ওই বৃদ্ধ কবে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরে যায়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version