বিশাল দাস, বীরভূম, বোলপুর, শান্তিনিকেতন : বীরভূমের বোলপুর শহরে ভোটগ্রহণ পরবর্তী সময়ে ইভিএম মেশিন পাচার ও সম্ভাব্য কারচুপির অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব, যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইভিএম মেশিনগুলি একটি গাড়িতে করে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। সেই সময় বিষয়টি নজরে আসে বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এবং তাঁর সঙ্গীদের। তাঁদের সন্দেহ হয় যে ইভিএম মেশিনগুলি নিয়মবহির্ভূতভাবে সরানো হচ্ছে।
এরপরই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা গাড়িটিকে ধাওয়া করেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে শেষমেশ বোলপুরের শ্রীনিকেতন মোড়ে গাড়িটি আটক করা হয়। গাড়ি আটকানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং দ্রুত সেখানে ভিড় জমাতে থাকেন বিজেপি সমর্থকরা। শুরু হয় বিক্ষোভ।
ঘটনার জেরে অভিযোগের তির ঘোরে সংশ্লিষ্ট সেক্টর অফিসারের দিকে। বিজেপির দাবি, গোটা ঘটনায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা উচিত এবং বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি এবং প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য মেলেনি।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও।