Home Uncategorized বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও মানেই গড়তে হবে বাংলার আগামীর শহর

বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও মানেই গড়তে হবে বাংলার আগামীর শহর

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ১৯ আগস্ট: দ্রুত নগরায়ণ, আধুনিক পরিকাঠামো এবং নিরাপদ নির্মাণের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের শহরগুলিকে আরও গতিশীল ও টেকসই করে গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বুধবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা প্রদর্শনী কেন্দ্রে শুরু হল সিআইআই রিয়ালিটি এক্সপো। তিন দিনের এই প্রদর্শনীতে পূর্ব ভারতের আবাসন, নির্মাণ, রিয়েল এস্টেট ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রের বিভিন্ন সংস্থা অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনের দিনেই প্রদর্শনীতে ৫০টিরও বেশি সংস্থা এবং প্রায় এক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলি সমাধানের পাশাপাশি রাজ্যের জন্য একটি সুস্পষ্ট উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। নির্মাণকাজে গুণমান বজায় রাখা, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও আপস না করার বার্তা দেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকৌশল ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতের শহরগুলিকে আরও নিরাপদ ও শক্তি-সাশ্রয়ী করে তুলতে হবে। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত ও স্বচ্ছ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিল্ডিং বিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনওরকম ছাড় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।

আগামী দিনের পরিকাঠামো প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, রিং রোড এবং বাইপাস ধাবা থেকে রাজারহাট পর্যন্ত একটি এলিভেটেড করিডর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চারটি স্মার্ট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, বাংলার আগামী দিনের ‘স্কাইলাইন’ গড়ে উঠতে হবে বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও গুণমানের ভিত্তিতে।

পশ্চিমবঙ্গ হাউসিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিভু গোয়েল বলেন, কলকাতাকে অংশীদারিত্ব ও উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। জমির প্রাপ্যতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার ও শিল্পমহলের মধ্যে আরও সহযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

শিল্পমহলের পক্ষ থেকে দ্রুত অনুমোদন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তোলেন সিআইআই পূর্বাঞ্চলীয়-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। তাঁর মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে প্রগতিশীল নীতি ও দ্রুত সরকারি ছাড়পত্র অত্যন্ত জরুরি। মেট্রো করিডরগুলির বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধান করলে কলকাতার উন্নয়নে বড় প্রভাব পড়বে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কলকাতাকে আরও পথচারীবান্ধব, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই শহর হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রয়োজন। কলকাতার বর্তমান বিমানবন্দর ভবিষ্যতে তার পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছনোর আগেই আরও একটি বিমানবন্দরের প্রয়োজন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নতুন ভূমি নীতি ও শিল্পনীতি শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন নেওটিয়া।

সিআইআই পুর্বর চেয়ারম্যান তথা টেগা ইন্ডাস্ট্রি-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও গ্রুপ সিইও মেহুল মোহাঙ্কা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে এই ক্ষেত্রের সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশের ওপর প্রভাবের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।

পরিবেশবান্ধব নির্মাণের ওপর জোর দিয়ে আইজিবিসি-র চেয়ারম্যান বিবেক সিং রাঠোর বলেন, নির্মাণ শিল্প বিপুল পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করে। তাই শহর পরিকল্পনা ও নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে কলকাতাকে দেশের ‘রত্ন’ বলে উল্লেখ করেন উয়িন্ডমেয়ার প্রজেক্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হেমন্ত লোধা। অন্যদিকে স
সুরেকা গ্ৰুপ-এর চেয়ারম্যান প্রদীপ সুরেকা বলেন, কলকাতার এগিয়ে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। সেই গতি বজায় রাখতে উন্নত পরিকাঠামো তৈরি করা জরুরি।

প্রদর্শনীর প্রথম দিনে ইন্টিগ্রেটেড টাউনশিপ, গ্রিন ও নেট-জিরো বিল্ডিং, নির্মাণ ও আবাসন ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সরকারি পরিকাঠামোর ভূমিকা নিয়ে একাধিক আলোচনা হয়। শিল্পপতি, নির্মাতা, স্থপতি, প্রযুক্তিবিদ ও পরিকাঠামো বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতের জন্য আরও স্মার্ট, নিরাপদ, টেকসই ও স্থিতিস্থাপক শহর তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে মত বিনিময় করেন।

২১ আগস্ট পর্যন্ত নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা প্রদর্শনী কেন্দ্রে চলবে
সিআইআই এর এই প্রদর্শনীতে নির্মাণ ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রের বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি, পণ্য ও পরিষেবা তুলে ধরা হচ্ছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version