Home Uncategorized পানীয় জল সমাধান এবং ভীমগড়-পলাশস্থলী রেলপথে ট্রেন চালুই লক্ষ্য বিধায়কের

পানীয় জল সমাধান এবং ভীমগড়-পলাশস্থলী রেলপথে ট্রেন চালুই লক্ষ্য বিধায়কের

0

অভীক মিত্র, সিউড়ি : পানীয় জল সমাধান এবং ভীমগড়- পলাশস্থলী রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালুই লক্ষ্য দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্র থেকে নব নিবাচিত বিধায়ক অনুপকুমার সাহার । বীরভূম জেলার অন্যতম সমস্যা – পানীয় জল । গ্ৰীষ্মকাল এলে তা প্রকট আকার ধারন করে । ভোট প্রচারে গিয়ে দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্রের গড়গড়া গ্ৰামে পানীয় জল সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি প্রাথী অনুপকুমার সাহা । জিতলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি প্রাথী । বর্তমানে দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছে অনুপকুমার সাহা । পানীয় জল সমস্যার সমাধান বিষয়ে জানত চাওয়া হলে নবনিবাচিত বিধায়ক অনুপকুমার সাহা বলেন, “পানীয় জল সমস্যা একটা প্রকট সমস্যা । সরকার গঠন অবশ্যই এই সমস্যার সমাধান করা হবে ।” ২২ মার্চ পারশুন্ডি গ্রামপঞ্চায়েতের আড়ং গ্রামে নির্বাচনী প্রচারে গেলে বিজেপি প্রার্থী অনুপকুমার সাহাকে দুই দশক ধরে বন্ধ থাকা ভীমগড়-পলাশস্থলী রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালু করার দাবি জানিয়েছিল সাধারণ মানুষজন । জিতলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল বিজেপি প্রাথী ।
পলাশস্থলী স্টেশন ঝাড়খন্ড রাজ্যের জামতাড়া জেলার অন্তর্গত । অন্ডাল-সাইথিয়া রেলপথের ভীমগড় স্টেশন থেকে রেললাইন আলাদা হয়ে হজরতপুর, রসোয়ান,বড়রাগ্রাম, লছমনপুর রোড স্টেশন হয়ে ট্রেন চলে যেতো পলাশস্থলী স্টেশন পর্যন্ত । ২৭ কিলোমিটার ছিল এই রেলপথ । সারাদিনে চারটি ট্রেন চলতো । ১৯৫৩ সালে চালু হয়েছিল এই রেলপথ । প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলি থেকে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম ছিল এই রেলপথ । যাত্রী ট্রেন না চললেও হজরতপুর পর্যন্ত আজও মালগাড়ি চলে । বড়রা গ্রামের পরের এলাকায় পরিত্যক্ত খনি থেকে কয়লা তুলতে তুলতে এই রেললাইনের তলায় মাটি ফাঁকা হয়ে গিয়েছে । ২০০২ সালে এই রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয় পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ । ঝাড়খন্ড সরকারও এই রেলপথ চালু করার দাবি জানিয়েছে কিন্তু লাইনের বিপজ্জনক অবস্থার কারণে তা সম্ভব হয়নি । ২০২৩ সালে বন্ধ থাকা এই রেলপথের রেললাইন চুরি করার অভিযোগে শেখ ইন্তাজ ও শেখ আলতাবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । তাদের জেরা করে কৈথির ঝোপজঙ্গল থেকে রেললাইনের ৩০টি টুকরো উদ্ধার করা হয় । ২০২২ সালের মার্চ মাসে
আসানসোল ডিভিশনের তৎকালীন ডিআরএম পারমানন্দ শর্মা ধানবাদের মুখ্য খনি উপদেষ্টা এবং আসানসোল বিভাগের অন্যান্য শাখা আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ভীমগড়-পলাশস্থলী রেলপথ পরিদর্শন করেছিল । ভীমগড়-পলাশস্থলী রেলপথ পুনরায় চালু করার দাবিতে একাধিকবার রেলমন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছিল অনুপকুমার সাহা । পূর্ব রেলের এক আধিকারিক বলেন, “হজরতপুরের পর থেকে কয়লা তোলার জন্য রেললাইনের নীচের অংশ ফাঁকা হয়ে গিয়েছে সেফটির কারনে ট্রেন বন্ধ আছে । রেলদপ্তর চেষ্টা করছে ভবিষ্যতে ট্রেন চালু হতে পারে ।” ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর আসানসোলের একটি বেসরকারি লজে বিহার,ঝাড়খন্ড ও পশ্চিমবঙ্গের সাংসদদের নিয়ে পূর্ব রেলের করা বৈঠকে পূর্ব রেলের জিএম এবং আসানসোল ডিভিশনের ডিআরএমের উপস্থিতিতে দুমকা লোকসভাকেন্দ্রের সাংসদ নলিন সোরেন অন্ডাল- পলাশস্থলী রেলপথ পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছিল । দুবরাজপুর বিধানসভাকেন্দ্র থেকে নব নিবাচিত বিজেপি বিধায়ক অনুপকুমার সাহা বলেন, “ঝাড়খন্ডের সঙ্গে বীরভূম তথা পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম এই ভীমগড়- পলাশস্থলী রেলপথ । রেল দপ্তর রুট ম্যাপ সহ প্রপোজাল জমা দিতে বলেছে । সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে রুট ম্যাপ ঠিক করে রেল দপ্তরের দ্বারস্থ হবো ।”

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version