Home Uncategorized দুই নারীপাচারকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা,তদন্তে পুলিশ

দুই নারীপাচারকারীকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা,তদন্তে পুলিশ

0
filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: null;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 41;

সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং : বিভিন্ন তথ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী মানবপাচার এবং নারী পাচারের শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা,বাসন্তী,ক্যানিং,জীবনতলা,মগরাহাট,জয়নগর সহ বিভিন্ন এলাকা।এমন কর্মকান্ড বন্ধ করতে পুলিশ প্রশাসন সহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তৎপরতার সাথে কাজ করে চলেছেন।ইতিমধ্যে কাজের সুত্রে অতি তৎপরতার সাথে দুই পাচারকারীকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন ‘তালদি এসটি,এসসি,ওবিসি এন্ড মাইনরিটি সোসাইটি’র মহিলারা। পুলিশ পিংকি রায় ও শান্তনু রায় নামে অভিযুক্ত দুই পাচারকারীকে আটক করে জিঞ্জাসাবাদ শুরু করেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে,ক্যানিং এলাকার জনৈক এক গৃহবধু সাথের পিংকি ও শান্তনুর আলাপ হয়। দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে গৃহবধুকে মোটা টাকার কাজের প্রলোভন দেয় পিংকি ও শান্তনু।দরিদ্র বধু রাজী হয়ে যায় পাচারকারীদের কথায়। সেই মতো গত প্রায় ১৫ দিন আগে ওই বধুকে নিয়ে সরাসরি ব্যান্ডেলে হাজীর হয়। সেখানে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।তারপর ওই বধুকে একটি ঘরের মধ্যে জোরপূর্বক আটকে রেখে একাধিকবার সহবাস করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি বিক্রি করে দেওয়ার বিষয় ও আলোচন হয় পাচারকারীদের মধ্যে।সেই কথা জানতে পারেন নির্যাতিতা বধু।কোনমতে পাচারকারীদের খপ্পর থেকে ওই বধু পালিয়ে আসেন ১৭ আগষ্ট।লজ্জায় আত্মহত্যার করার প্রস্তুতি নেয়।আত্মহত্যার পর যাতে করে স্বামী বা পরিবারের লোকজনদের নাম অপরাধী হিসাবে পুলিশের খাতায় না ওঠে,সেই কারণে ‘তালদি এসটি,এসসি,ওবিসি এন্ড মাইনরিটি সোসাইটি’ মহিলাদের কাছে হাজীর হয়। সেখানে স্বামীর সাথে ডিভোর্স করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন নির্যাতিতা। এরপর নির্যাতিতার কাছে সমস্ত কিছু শুনে আসরে নামেন মহিলা সমিতির মহিলারা। তাঁরা নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী অভিযুক্ত দুই নারী পাচারকারী কে বৃহষ্পতিবার সকালে ধরে ফেলে।ক্যানিং থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

সুত্রের খবর অভিযুক্ত পিংকি’র বাড়ি বিহারের ধানবাদ এলাকায়।শান্তনুর বাড়ি লক্ষীকান্তপুর এলাকায়।দীর্ঘদিন ধরে ক্যানিংয়ে একটি বাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাবাস করছিল।সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র গৃহবধু ও নাবালিকাদের টার্গেট করে মোটা টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে পাচারের জন্য নিজেদের আয়ত্বে আনতো। 

নির্যাতিতা বধূর দাবী, ‘আমার দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে মোটা টাকার কাজের প্রলোভন দেয় পিংকি ও শান্তনু। পরে আমাকে ব্যান্ডেলে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে জোরপূর্বক একাধিকবার সহবাস করে এক যুবক। পিংকি সেখানে উপস্থিত ছিল।বাধা দিতে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। কোন প্রকারে পাচারকারীদের খপ্পর থেকে পালিয়ে বাঁচি।বাড়িতে ফিরে আসি।মহিলা সমিতির সদস্যাদের কাছে ঘটনার কথা জানাই। যাতে করে পাচারকারীদের কঠোরতম শাস্তি হয় সেজন্য ক্যানিং থানায়ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। ’

তালদি এসটি,এসসি,ওবিসি এন্ড মাইনরিটি সোসাইটি’র সম্পাদিকা রুপালী মন্ডল জানিয়েছেন,‘আমরা দুই পাচারকারী কে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।যাতে করে কঠোর শাস্তি হয় সেই দাবীও জানিয়েছি।’

অন্যদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে দুই নারী পাচারকারীকে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই চক্রের সাথে আর কে বা কারা জড়িত রয়েছে সে সম্পর্কে ধৃতদের জিঞ্জাসাবাদ করে তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং পুলিশ।  

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Exit mobile version